Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

লকডাউনেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি


টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : বাংলাদেশে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালেও চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। রাস্তায় বের হওয়া অধিকাংশ মানুষই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। অনেকে মাস্ক পরলেও তা নামিয়ে থুতনির নিচে রাখছেন। ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও রিকশার অবাধে চলাচল করছে। তবে বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহন যথারীতি বন্ধ রয়েছে। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ যতই দিন যাচ্ছে ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে।


জানা গেছে, শুক্রবার যানবাহনের চলাচল অনেক বেড়েছে। ঢাকার অনেক সড়কে গাড়ির চাপের কারণে ট্রাফিক সিগন্যালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা থাকলেও বাস্তবে মানছেন না বেশিরভাগ মানুষ। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন হাটবাজার, দোকানপাট, উন্মুক্ত স্থানেও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। আবার যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন তারা পাশেরজন না মানায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সকালে অনেককেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে দেখা গেছে। অনেককেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অনেকেই গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে প্রাইভেট কার খুঁজছিলো। কেউ বাড়তি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেটকারে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কেই ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোরালো কোনো তাৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা আর আগের মতো দেখা যায়নি। এছাড়া নগরীর কোন কোন ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। কঠোর বিধিনিষেধের দিনেও কর্মজীবী মানুষদের কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগকে সঙ্গী করে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল, রিকশা বা হেঁটে কর্মস্থলে গিয়েছেন। সরকারের নির্দেশনায় খোলা স্থানে কাঁচাবাজার স্থাপনের নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভিতরে বসে খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোন কোন হোটেলে পর্দা টাঙ্গিয়ে বসে খেতে দেখা গেছে।


কাঁচাবাজার আর দোকানপাটগুলোতে বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। আর তিনফুট শারীরিক দূরত্ব মানার কোন লক্ষণই নেই। এসব দোকানের ভেতরে একজনকে রেখে সামনে দোকানি ও কর্মচারীরা ঘোরাফেরা করেন। কোন ক্রেতা এলে তারা দ্রুত শাটার খুলে মালামাল বিক্রি করে আবার বন্ধ করে দেন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে বাধ্য করতে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। কিছু স্থানে মোবাইল কোর্ট ও পুলিশের তদারকি থাকলেও তা ছিল খুবই সীমিত সময়ের জন্য। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য প্রশাসন মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকায় রিকশা, সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলের আধিক্য। কোথাও কোথাও আবার যানজট তৈরি হচ্ছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গাড়ির লম্বা সারি। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় চেকপোস্টের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
রাস্তায় বের হওয়া এনামুল হক জানান, তাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকা আর সম্ভব নয়। যারা বের হয়েছেন তারা সবাই নিজেকে স্বল্প আয়ের মানুষ দাবি করছেন। তারা বলছেন, এত দিন ঘরে বসে থাকলে তো না খেয়েই মরে যেতে হবে। তাই বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে।
রিকশা চালক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও রাস্তায় যানবাহন অনেক বেশি বের হয়েছে। লকডাউনের শুরুতে যানবাহন রাস্তায় কম আছিল। এখন প্রত্যেক দিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। শিশুমেলা থেকে ধানমণ্ডির মধ্যে কলেজ গেট ও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুলিশের চেক আছে। বেলা ১২টা পরে এই চেক বন্ধ করে দেয়। তারা ঠাণ্ডা জায়গায় যাবে তাই। তখন আবার গাড়ি যেইভাবে চলতেছে, ওইভাবেই চলবে। চেক আবার বিকেল ৪টা বা ৫টার দিকে শুরু হয়ে যায়। বিকেলে ২-৩ ঘণ্টা চেক চলে। সন্ধ্যা ৭-৮টার পর আর গাড়ির চাপ থাকে না।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সুপার মার্কেটে মানুষের চাপ ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি। অনেকেই বলছেন, মার্কেটগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব চলছে। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ প্রত্যেক মার্কেটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কারণ সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবার মার্কেট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির শিকার হবেন। এ জন্য ব্যবসায়ীদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে। দোকানদারদের বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানতে পারলে দোকান বন্ধ রাখবেন। বিক্রেতারা বলেছেন, যেসব ক্রেতা কেনাকাটা করতে আসছেন, তাদের অধিকাংশই পাইকারি ক্রেতা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য কেনাকাটা করছেন তারা। কারণ দীর্ঘদিন দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকায় তাদের অনেকেই কেনাকাটা করতে পারেননি। সেজন্যই এখন মার্কেটে বেশি ভিড়।
এদিকে বিধিনিষেধে কর্মহীন হয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া মানুষজনও এখন ফিরতে মরিয়া। এরই মধ্যে রাজধানীর আশপাশের জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মানুষজন ঢাকায় এসে কাজকর্মে যোগ দিয়েছেন। যশোর, খুলনা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার মানুষজন ভাড়া গাড়িতে করে ঢাকায় ফিরছেন। এর ফলে মহাসড়ক ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে।


তবে লকডাউনের মধ্যেই দোকানপাট, সুপার মার্কেট ও শপিংমল খোলা রাখা নিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, শপিংমল খোলা থাকায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, রিকশা চলাচলের পাশাপাশি মানুষের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিধিনিষেধ অনেকাংশে ব্যাহত হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, গত বছর দীর্ঘদিন লকডাউন ছিল দেশে। তবু করোনার সংক্রমণ কমানো যায়নি। এক বছরে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামান্য উন্নতি হয়নি; বরং কমেছে। আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন প্রথম দিকে যতটা মানা হচ্ছিল, এখন তা মানা হচ্ছে না। মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না। শপিংমল খুলে দেওয়ায় মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে, তা অকল্পনীয়।
হেলথ অ্যান্ড হোফ কেয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রধান দুর্বলতা হচ্ছে, সামগ্রিক কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিরোধের জায়গা ঠিক করা হয়নি। তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো লকডাউন সফল হয় না। লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই শপিংমল খুলে দেওয়ায় করোনার কথা মানুষ ভুলতে বসেছে।
বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন বলেন, গণপরিবহন চালু নেই। তবে ছোট ও মালবাহী ট্রাকের কারণে সাতটি ফেরি চালু আছে। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ আছে ঘাটে। যে কারণে ফেরিতে যাত্রীদের চাপ বেশি। এতে সড়কে ছোট গাড়ির পাশাপাশি মানুষের চাপ বেড়েছে।

print

Leave a Reply