Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

তালিকাভুক্ত মাদক সম্রাট রুবেল গ্রেফতারের পর আতঙ্কে মাদক ব্যবসায়ীরা

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : ঢাকার মাদক সাম্রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ করছে তালিকাভুক্ত ৩৭ গডফাদার। প্রভাবশালী ৩৭ গডফাদারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে প্রায় এক হাজার মাদক ব্যবসায়ী রাজধানীর পাঁচ শতাধিক স্পটে মাদক কেনাবেচা করছে। এসব স্পটে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। গত বুধবার রাত উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফার ছেলে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক সম্রাট রফিকুল ইসলাম রুবেল গ্রেফতার হওয়ার পর অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেকই আবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে পুলিশ-র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রস্তুত এক তালিকায় ৩৭ গডফাদারের নাম উঠে এসেছে। এ তালিকা ধরে রাজধানীর মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদারদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এ কঠোর অবস্থানের কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের আগ্রাসন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু দু’একজন বহনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সার্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পল্লবী, কালশী, ভাষানটেক, জেনেভা ক্যাম্প, কমলাপুর রেলস্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চাঁনখারপুল, গেন্ডারিয়া, টিটিপাড়া, খিলগাঁও, পুরানা পল্টন, বাড্ডা, ভাটারা, বনানী, গুলশান, মতিঝিল, আরামবাগ, যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ বনশ্রী, ধানমন্ডি, মিরপুর, তেজগাঁও রেলবস্তি, উত্তরা, গাবতলী, কাওরানবাজার রেলবস্তি, রূপনগর, শাহআলী, বংশাল, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক স্পটে প্রকাশ্যে চলে মাদক কেনাবেচা। আর এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত গডফাদাররা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ গডফাদার ইশতিয়াক ওরফে কামরুল হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে জেনেভা ক্যাম্পসহ আশপাশের শতাধিক মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সে। মাদকের কারবার করে এক সময়ের টোকাই ইশতিয়াক এখন শত কোটি টাকার মালিক।
জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার আরেক গডফাদারের নাম নাদিম ওরফে পঁচিশ। প্রতিদিন জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় মাদক বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। শীর্ষ এই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে মাত্র ১২ দিন। দাপুটে মাদক কারবারি নাদিমের ওপর ছায়া হয়ে থাকেন স্থানীয় নেতা, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। উত্তরা এলাকায় মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য ফজলুল করিমের। পিরোজপুর থেকে ঢাকায় এসে শুরু করে মাদক ব্যবসা।
মাদক সাম্রাজ্যের উত্তরা থেকে আবদুল্লাহপুরের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। র‌্যাব-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রির টাকায় বিলাসী জীবনযাপন করছে সে। গডফাদার রিয়াদ উল্লাহ, সাব্বির হোসেন, এনায়েত করিম, শরিফ ভুইয়া, ইতি বেগম, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, নার্গিস ওরফে মামির নিয়ন্ত্রণে বাড্ডা, ভাটারা, গুলশান ও বনানী এলাকার মাদক ব্যবসা।
মুন্সীগঞ্জের রিয়াদ উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে চলে বাড্ডা এলাকার ১০-১২টি স্পট। কক্সবাজারের সাব্বির হোসেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভাটারার ইয়াবা সিন্ডিকেট। পুলিশ-র‌্যাবের তালিকায় রয়েছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সাব্বিরের নাম। এছাড়াও তালিকাভুক্ত ঢাকার ৩৭ গডফাদারের মধ্যে রয়েছে-উত্তরায় গোলাম সামদানি, বংশালে নাসির উদ্দিন, মুগদায় পারভীন, শফিকুল ইসলাম মলাই, রাজু আহমেদ ও আলম হোসেন, কমলাপুরে লিটন, চকবাজারে ওমর ফারুক, লালমিয়া, কলাবাগানে নাজমুস সাকিব ভুইয়া, শামিম, কামরাঙ্গীরচরে খুরশিদা ওরফে খুশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে শহিদুজ্জামান, চাঁনখারপুলে পারভিন আক্তার, আসমা আহমেদ ও নারায়ণগঞ্জের ছেলে কামাল হোসেন, যাত্রাবাড়ীতে মোবারক, গেন্ডারিয়া এলাকায় রহিম ও মিরপুর চলন্তিকা বস্তি এলাকায় নজরুল।
এদিকে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়রের ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেল ও তার স্ত্রী তানজিয়া আক্তার শিউলী ওরফে সীমা এবং সহযোগী মো. আওলাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধা করে পুলিশ। বর্তমান তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পল্লবী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলা নম্বর ৮৫।
ডিএনসিসির প্যানেল মেয়রের ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেল গ্রেফতারের পর অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আত্মগোপনে চলে গেছে। পুলিশ বলেছে, মাদকসম্রাট রুবেল মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করতো পল্লবী, কাফরুল ও ভাষানটেক এলাকায়। তার নিয়ন্ত্রণেই চলতো মাদক ব্যবসায়া। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারতো না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে এবং উল্টো মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে দিতো রুবেলের বাবা ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা।
পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই ইয়াবাসহ ডিএনসিসির প্যানেল মেয়রের ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে পুলিশের প্রতি। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছি।

print

Leave a Reply