ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহত বেড়ে ৪০০

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সুলায়েসি দ্বীপে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সুনামির সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিহত এখন পর্যন্ত ৪০০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে এ তথ্য জানা গেছে। সুলায়েসি দ্বীপের পালু শহরে তিন মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত লোকজনদের চিৎকার করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

পালুতে ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল, হোটেল, বিক্রয় কেন্দ্রসহ প্রায় এক হাজার ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ এবং সেতু ধসে পড়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে অনেকের বাড়ি-ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ছবি: এএফপি
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৮৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৫৪০ জন। এ ছাড়াও নিখোঁজ রয়েছে ২৯ জন। তবে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যায় সুলায়েসির কেন্দ্রে ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা জারি করা হলেও ঘণ্টাখানেক পর তা তুলে নেওয়া হয়।

দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ সায়্যুগি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অনেক মরদেহ পড়ে আছে, আমরা সঠিক সংখ্যাটা জানি না। এটাও নিশ্চিত নয় যে তাদের মৃত্যু ভূমিকম্পে নাকি সুনামিতে হয়েছে।’

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরহ নগরোহো রয়টার্সকে বলেন, ‘সুনামিতে নিহত অনেক মৃতদেহের পরিচয় এখনো আমরা জানতে পারিনি। সতর্কতা জারির পরও গতকাল অনেকে সৈকতে অবস্থান নিয়ে কাজ করছিল। আঘাত হানার সময় তারা দ্রুত সে জায়গা থেকে সরে যেতে পারেনি, ফলে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি।’

তাদের কেউ কেউ উঁচু গাছে উঠে নিজেদের রক্ষা করেছেন বলে জানান সুতোপো।

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল।


সুনামি শহরের প্রধান হাসপাতাল ধসে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এখন বাইরে অস্থায়ী হাসপাতাল করে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দঙ্গালা শহরে প্রথমে আঘাত হানে ভূমিকম্প। এতে একজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়। সন্ধ্যার পরও পালু শহরের সৈকতে ‘বিচ ফেস্টিভ্যালে’র প্রস্তুতি চলছিল। ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাতেই মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাগুলো।

পালুতে অন্তত তিন লাখ লোকের বসবাস। দেশটির মন্ত্রী জানান, উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু শহরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। যদিও আশা করা হয়েছিল যে সেখানে হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে।

দেশটির সেনাবাহিনী রাজধানী জাকার্তা থেকে ত্রাণ নিয়ে রওনা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দেশটির লম্বক দ্বীপে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়।

সূত্র:এএফপি।

print

Leave a Reply