কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ও পানিতে পড়ে ৯ জন নিহত

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো পাঁচজন। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ও রাত ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ভিলেজার পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গত তিন দিনে টানা বর্ষণে জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এবং ঈদগাঁও উপজেলার দরগাহপাড়ায় খালে পানিতে ডুবে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী জানান, প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের খাদে অবস্থিত বাড়িতে পাহাড়ের খণ্ড ধসে পড়ে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় ওই এলাকার সৈয়দ আলমের ঘুমন্ত পাঁচ সন্তান। বুধবার সকালে প্রথমে দুইজন ও পরে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাটিচাপা পড়ে দুজন আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, পাহাড় ধসে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভিলেজার পাড়ার সৈয়দ আলমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে হোয়ানক ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজোয়ার ঘোনা গ্রামে পাহাড় ধসে পড়ে এক বৃদ্ধ জন মারা যান। পাহাড়ের অংশ পাশের ঘরের দেয়ালে পড়লে মাটির নিচে চাপা পড়েন বৃদ্ধ আলী হোসেন। গতকাল সকালে মাটি খুঁড়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাড়ির আরো তিনজন আহত হয়। এ ছাড়া পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ওই বাড়ির একটি গরু ও একটি ছাগলও মারা যায়।
গত তিন দিন ধরে কক্সবাজার জেলায় টানা বর্ষণ চলছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পাহাড় ধসে দুই পরিবারের পাঁচজন এবং শরণার্থী শিবিরে ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া পাহাড় ধসে শরণার্থী শিবিরের ৫০টিরও বেশি ঘর বিধ্বস্ত হয়। গত মঙ্গলবার মহেশখালী উপজেলায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে এক নারী নিহত হন। টেকনাফে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে আরও একজন মারা যান।
এ ছাড়া টানা বর্ষণে কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, ঈদগাঁও, চকরিয়া, উখিয়া টেকনাফ ও মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ২০টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রাম। এসব গ্রামের এক লাখেরও বেশি মানুষ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, কক্সবাজারে টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সচেতনতা অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া, বাদশাঘোনা, রাডার স্টেশন ও সার্কিট হাউজের পাহাড়ের নিচের এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছৈয়দ মুরাদ ইসলাম এবং মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে এ সচেতনতা অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিকটস্থ বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন স্কুলসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়েও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে যেতে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।
এছাড়াও কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার দরগাহপাড়ায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই ভাইসহ তিন যুবক মারা গেছে। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হলেন ঈদগাঁও দরগাহপাড়া এলাকার মো. শাহাজাহানের ছেলে ফারুক (২০), মোর্শেদ (২১) ও একই গ্রামের আবসারের ছেলে আয়াতুল্লাহ (১৭)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সদর উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মিজানুল হক জানান, বুধবার সকাল নয়টার দিকে দুই ভাইসহ তিনজন নাসিখালে মাছ শিকারে যায়। এ সময় একজন খালে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধারে অপর দুইজনও ঝাঁপ দেয়। এতে তিনজনই নিখোঁজ হয়। তিনি জানান, অনেক খোঁজাখুজির পরও তাদের সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি আনা হয়। অনেক চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডুবুরি দল তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে তিন মরদেহ উদ্ধারসহ গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে পাহাড় ধস এবং পানিতে ভেসে গিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উখিয়ায় পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে ৬ জন, টেকনাফে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৫ জন, মহেশখালীতে পাহাড় ধসে ১ জন এবং ঈদগাঁহতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই সহোদরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ড. মো. মামুনুর রশীদ আরো জানান, প্রাথমিক তথ্যে জেলার ৪১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ১৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে চারলাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

print

Leave a Reply

সর্বশেষ