Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত ভারত

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট : মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত ভারত। বিশেষ করে দিল্লির হাসপাতালগুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ, এমনকি কোন বেডও খালি পাওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেনের অভাবে চোখের সামনেই ছটফট করতে করতে মারা যাচ্ছেন প্রিয়জন। শ্মশানে সারি সারি লাশ, শহরে আর মৃতদেহ সৎকারের জায়গা নেই। দিল্লি শহরে দেহ সৎকারের প্রয়োজনীয় জায়গাও নেই। চিতা জ্বালাতে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত দাহকাঠ, অন্ত্যেষ্টির লোকজনেরও অভাব। সবমিলিয়ে করোনায় দিল্লি যেন মৃত্যুপুরী।

জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের দিল্লিতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিনশ’ করে কোভিড রোগী মারা যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় অন্যতম আধুনিক এ শহরের সব শ্মশানে উপচে পড়ছে মৃতদেহে। কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় অন্ত্যেষ্টিতে পাওয়া যাচ্ছে না পরিবারের লোকজন। অনেকে লাশের খবরও নিচ্ছেন না। ফলে সৎকারের লোকেরও অভাব পড়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দিল্লির সারাইকালে খান শ্মশানে প্রতিদিন কমবেশি ৬০-৭০টি মরদেহ সৎকার হচ্ছে। যদিও হিসাব অনুযায়ী এখানে মাত্র ২২ জনের সৎকার করার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে তিনগুণ চিতাদাহ হচ্ছে। শহরে ২৫টি স্থায়ী শ্মশানের প্রত্যেকটিতেই এমন অবস্থা। দিল্লিতে মারা যাওয়া কোভিড রাগীদের চিতা জ্বালাতে বেশকিছু অস্থায়ী শ্মশান তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু চিতা জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দাহকাঠ এবং জনবলের প্রবল সংকট দেখা দিয়েছে।

সেই কবে সিপাহী বিদ্রোহের পর উর্দু ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মির্জা আসাদুল্লা খান গালিব তার দিনলিপিতে দিল্লি নগরীকে ‘মৃত্যুর শহর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কবি মির্জা গালিবের দেখা সেই দিল্লিই যেন আবার ফিরেছে। দিল্লি যেন মৃত্যুপুরী।

সূত্র জানায়, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লির শ্মশান ও কবরস্থানে দৈনিক গড়ে যে সংখ্যক দেহ সৎকার করা হয়, গত এক সপ্তাহে তা ৩-৪ গুণ বেড়ে গেছে। তাই মৃতের সংকার কাজে শ্মশান সংকট তৈরি হওয়ায় পার্ক ও মাঠ যেখানে-সেখানে তৈরি করে নিতে হচ্ছে অস্থায়ী শ্মশান। দিল্লির সরাই কালে খান শ্মশানে প্রতিদিন ৬০-৭০টি দেহ সৎকার হচ্ছে। শ্মশানের কাছে পার্কেও শতাধিক মৃতদেহের সারি দেখা যায়। আইনত কোনো শ্মশানে দিনে ২০টির বেশি দেহ সৎকার করা যায় না। কিন্তু মহামারির জন্য সেটা তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। দিল্লিতে সারা শহরে ২৫টি স্থায়ী শ্মশান আছে। শ্মশানে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃতদেহের চাপ বাড়ায় আরো ২০টি অস্থায়ী শ্মশান তৈরি করা হয়েছে। আরো ৮০টির প্রস্তুতি চলছে।

দিল্লি শহরের সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগমবোধ ঘাট থেকে ওঠা ঘনকালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে সেখানকার আকাশ। আগে ওই শ্মশানে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি দেহ পোড়ানো হতো। এখন দৈনিক ৩০টির বেশি দেহ পোড়ানো হচ্ছে। মৃতের সৎকার করার জন্য আত্মীয়দের অপেক্ষা করতে হচ্ছে চার-পাঁচ ঘণ্টা।
অন্যদিকে শ্মশান ও কবরস্থানে যত করোনা রোগীর দেহ সৎকার হয়েছে, তার সঙ্গে দিল্লি সরকারের দেওয়া করোনায় মৃতের হিসাবে বিশাল পার্থক্য দেখা গেছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দিল্লির সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্ত শ্মশান এবং কবরস্থান থেকে সৎকার হওয়া মৃতদের তথ্য জোগাড় করেছে। ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়া সেই তথ্যের সঙ্গে সরকারি বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্যের পার্থক্য প্রায় ১ হাজার ১৫৮ জনের।

দিল্লি সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৯৩৮ জনের। কিন্তু ওই সময়কালে দিল্লি পৌরসভার ২৬টি শ্মশান ও কবরস্থানে সৎকার করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৬ জন করোনা আক্রান্ত মৃতের দেহ। এই তথ্য দেখাচ্ছে দিল্লি সরকারের প্রকাশিত তথ্যে ১ হাজার ১৫৮ জন মৃতের উল্লেখ নেই।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৯৬ জনের যে হিসাব পাওয়া গেছে তাদের সবার মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। দিল্লির পৌর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল থেকে আসা মৃতদের হিসাবই রেখেছে। এছাড়াও প্রচুর করোনা আক্রান্ত রয়েছেন দিল্লিতে, যারা হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ভর্তি হতে পারেননি এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে। তারা রয়েছেন এই হিসাবের বাইরে।

গাজিপুর শ্মশানের কর্মী অনুজ বনসল বলেন, সৎকারের আগে কোভিডের জন্য মৃত্যু না অন্য কারণে মৃত্যু, তা আমাদের লিখে রাখতে হচ্ছে। মৃতরা হাসপাতাল থেকে বা অ্যাম্বুল্যান্সে এলে আমরা জানতে পারছি। কিন্তু বাড়ি থেকে মৃতদেহ এলে কোভিডের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারছি না। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসাবে আমাদের খাতায় করোনার উল্লেখ থাকছে না।

এদিকে, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ২২ জনের লাশ একটি অ্যাম্বুলেন্সে বহন করার ঘটনায় হৈ চৈ পড়ে গেছে। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের বীর জেলার আম্বাজোগাইয়ে। এভাবেই ঠাসাঠাসি করে ওই লাশগুলো সৎকারের জন্য একটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন ঘটনায় মানুষজন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এরপরই এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে আম্বাজোগাইয়ে একটি টিম পাঠিয়েছে বীর জেলা প্রশাসন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পুলিশের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এই দৃশ্য ভিডিও করছিলেন মৃতদের দুজনের আত্মীয়। কিন্তু পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
বীর জেলার প্রশাসক রবীন্দ্র জগতপ বলেন, আম্বাজোগাইয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি কারও দোষ থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিধ্বস্ত ভারত। রোজ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছেন হাজারো মানুষ। দেশটিতে গত ৭ দিন টানা দুই হাজারের বেশি করে মৃত্যু হয়েছে করোনায়। গত ২৪ ঘণ্টায়ই ২৭৭১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সকালে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে দিনের পর দিন বেড়ে চলার পর অবশেষে ভারতে কিছুটা কমেছে দৈনিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। তবে সেটা তিন লাখের গণ্ডি থেকে নিচে নামেনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ জন। সর্বশেষ এই সংখ্যা নিয়ে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৭ জনে।

গত কয়েকদিন ধরে ভারতে দৈনিক মৃত্যুতে তৈরি হয়েছিল নতুন রেকর্ড। গত সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার মৃত্যু কম হলেও তা আড়াই হাজারের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৭৭১ জন। এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৪ জনে।

গত সাত দিন ধরে ভারতে মৃত্যু দুই হাজার কোটা থেকে নামেনি। এক সপ্তাহে দেশটিতে ১৭ হাজার ৩৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি মাসে ৩৪ হাজার ৬০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে করোনায়। এটি একমাসে সব থেকে বেশি মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেশটিতে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ হাজার ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

print

Leave a Reply