Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

ঢাকা-দিল্লির মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক সই

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : ভারত-বাংলাদেশ অস্থিরতা, সন্ত্রাস ও অশান্তির পরিবর্তে স্থিতিশীলতা, প্রেম ও শান্তির পৃথিবী গড়তে চায় বলে দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উভয় দেশই নিজেদের বিকাশ ও নিজেদের প্রগতির চেয়ে সমগ্র বিশ্বের উন্নতি দেখতে চায়। শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে নরেন্দ্র মোদি ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন। এছাড়াও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স ও ১২ লাখ করোনা টিকা উপহার দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, করোনা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দেশ বিশ্বকে শান্তি ও ভালোবাসার পথ দেখাবে। তিনি বলেন, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের দয়ায় শনিবার এই পবিত্র ভূমিতে আসতে পেরেছি। আমি হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের চরণে মস্তক নত করে প্রণাম জানাই। আমি ওড়াকান্দি আসতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা যেরকম শান্তি অনুভব করেন আমিও তেমনি অনুভব করছি।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাশাপাশি ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি ও ১২ লাখ টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন।
শনিবার বিকেল ৫টায় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। এরপর দুই নেতার উপস্থিতিতে ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন হয় এবং ১০৯টি অ্যাম্বুলেন্স ও ১২ লাখ করোনা টিকা হস্তান্তর হয়। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, সংযোগ, শক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে অর্জনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের সফরে ঢাকায় অবস্থান করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে শনিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দর্শনার্থী বইয়ে এ বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন-অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের জন্য বাংলাদেশের মানুষের যে সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর জীবন তারই প্রতিচিত্র। তার অবিনাশী চেতনা আর অদম্য সাহস কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে, বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তারা (বাঙালি) পরিণত হয়েছে বিজয়ী জাতিতে। তিনি লিখেছেন, ভারতবাসী বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে একজন বীর হিসেবে, সেই ভারতবাসীর পক্ষে আমি ২০ শতকের এই মহান রাষ্ট্রনেতার প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম, যে ইতিহাসকে তিনি নতুন রূপ দিয়েছেন দৃঢ় সঙ্কল্প আর আত্মত্যাগের প্রবল শক্তি দিয়ে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, এই ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে আমার দৃঢ় বিশ্বাস- বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া সাম্য, মুক্তি আর ন্যায়বিচারের চেতনা আমাদের ভবিষ্যতেও পথ দেখিয়ে যাবে। সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার মোদি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের ঘটনায় অন্যান্য শহিদদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনাও করা হয়। এ সময় সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ছোটবোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাধি সৌধের বিভিন্ন অংশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরে দেখান।
এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ রেহানা ফুলের তোড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সে নরেন্দ্র মোদিকে অভ্যর্থনা জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাখা পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে বঙ্গভবনে যান বাংলাদেশে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সন্ধ্যার পরে মোদি বঙ্গভবনে গেলে তাকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। গত শুক্রবার ঢাকায় আসেন তিনি। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে মোদির নেতৃত্বে আসা ভারতের প্রতিনিধি দলকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শেখ হাসিনা মোদিকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেয়া হয়। দুদিনের সফর শেষে তিনি শনিবার রাতে আবার দিল্লি ফিরে যান।

print

Leave a Reply