Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

ঢাকার গুলশানে ফ্ল্যাটে তরুণীর লাশ উদ্ধার


টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান ওরফে মুনিয়া নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধারের পর রাতেই ওই তরুণীর বোন বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করেছেন। গুলশান থানায় এ মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-২৭। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান জোনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।
পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান ওরফে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় ৩০৬ ধারায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া’র অভিযোগে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। রাতেই মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করেছেন। মৃত মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান জোনের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুনিয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। মেয়েটির পরিবার কুমিল্লায় থাকেন। এখানে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন।
উপকমিশনার সুদীপ কুমার জানিয়েছেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলার বরাত দিয়ে উপকমিশনার বলেন, মেয়েটির সঙ্গে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডির সম্পর্ক দুই বছরের। এমডি এক বছর মেয়েটিকে বনানীর ফ্ল্যাটে রাখেন। পরে মনোমালিন্য হলে মেয়েটি কুমিল্লায় চলে যায়। তবে গত মার্চ মাসে ঢাকায় এসে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন।
উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, গুলশানের ওই বাসায় গত ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে ওই এমডির মনোমালিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, যেকোনও মুহূর্তে তারা যেকোনও ঘটনা ঘটতে পারে। এরপরই সোমবার বিকেলে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন ওই তরুণীর বোন। তবে গুলশানের ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান তিনি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শোবার ঘরে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। সাক্ষ্যপ্রমাণ হাতে এলে ওই এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান মামলাটির তদন্ত করছেন। মামলা নম্বর-২৭। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ ও মুনিয়ার ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।
গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, মুনিয়া যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাটটির মাসিক ভাড়া ১ লাখ টাকা। সেখানে অগ্রিম দেয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। এরইমধ্যে দুই মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।


বাদী নুসরাতের বরাত দিয়ে গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল হাসান ফিরোজ বলেন, মুনিয়ার সঙ্গে একজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মুনিয়া সেখানে একাই থাকতেন।
মামলা দায়েরের পর মুনিয়ার বড় বোন মামলার বাদী নুসরাত জাহান বলেন, আমি নিজে বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেছি। মামলাটি একজন বিশিষ্ট শিল্পপতির ছেলের বিরুদ্ধে হয়েছে। মামলার বাদী নুসরাত জাহান এজাহারে ঘটনার যে বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তা তুলে ধরা হলো- মোসারাত জাহান ওরফে মুনিয়া (২১) মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মুনিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং মুনিয়াকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।


সবশেষ গত ১ মার্চ আসামি মুনিয়াকে প্ররোচিত করেন। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মুনিয়াকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখে। আসামি বাসায় আসলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
বোনের (মুনিয়ার) মাধ্যমে তিনি (বাদী) জানতে পারেন, আসামি তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবে। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে যাওয়া-আসা করতেন। গত ২৩ এপ্রিল মুনিয়া তাকে (বাদীকে) ফোন করেন। ফোন করে বলেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মুনিয়া) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মুনিয়া যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মুনিয়াকে) মেরে ফেলবেন।
এর দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মুনিয়া তাকে (বাদীকে) ফোন করেন। তখন তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মুনিয়া বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মুনিয়া) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মুনিয়াকে তিনি ছাড়বেন না। মুনিয়া চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনও সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদীর পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।
বাদী নুসরাত তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মুনিয়াকে ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি (বাদী) দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।
পুলিশ এসে ওড়না কেটে মুনিয়ার মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার (মুনিয়ার) ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।

 

print

Leave a Reply