চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকায়

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: ঢাকায় পৌঁছেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গি। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ওয়েই ফেঙ্গি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। মহামারি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঢাকা সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ভারত থেকে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ। আর চীনও বাংলাদেশকে টিকা দিতে নিজেদের মনোভাব জানায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তার এই সফর বলে ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় টিকা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে চীনের এ প্রভাবশালী নেতার ঢাকা সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব আলোচনায় টিকা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তারা। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জোরালো সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ফলে আলোচনায় সামরিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সফরকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শিখা অর্নিবাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিনি ভিয়েতনাম সফর শেষে ঢাকায় আসবেন। ঢাকা থেকে কলম্বো হয়ে বেইজিং যাবেন তিনি।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা করবেন। কোভিড মোকাবেলা এবং কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেবেন। এছাড়াও, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেবেন।
চীনের এই উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল সাপ্লাই ডিপো’ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হবে। এর অধীনে টিকা, ক্যানুলা এবং আইসিইউ বেডসহ আরও কি কি সহযোগিতা দেবে চীন তা জানা যাবে। এছাড়াও, বৈঠকে কোভিডপরবর্তী পুনরুদ্ধারে দারিদ্র্য বিমোচনে চীনের অভিজ্ঞতা বিনিময়, চায়না সাউথ এশিয়া সেন্টার গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ই-কমার্স চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে।

print

Leave a Reply