রাজপথ দখলের চেষ্টা ব্যর্থ বিএনপির

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: বিভিন্ন সময় নয়াপল্টন, প্রেসক্লাব, সোহরাওয়াদী উদ্যান, মহানগর নাট্য মঞ্চে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করলেও এবার ভিন্ন রকমের শোডাউন দিল বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা সুপ্রিম কোর্টের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা রাজপথ দখলেরও চেষ্টা করে। যদিও পুলিশের কঠোর বাধায় রাজপথ দখলে নিতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্পটে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। অবস্থান কর্মসূচীতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অবস্থান আর শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোটা হাইকোর্ট এলাকা। আশপাশের রাস্তাগুলোও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এসময় নেতাকর্মীরা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ ও অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয়। এর কিছুক্ষণ পরই মিছিলটি হাইকোর্টের দ্বিতীয় গেটে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় হাইকোর্ট থেকেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীসহ অনেকেই মিছিলে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটের সামনে অবস্থানে অংশ নেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তারা দেশবাসীকে রাস্তায় নেমে আসার আহবান জানান। যতক্ষণ না পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলারও ডাক দেন।
একপর্যায়ে হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে চায়। এসময় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাাকে। এসময় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
অবস্থান কর্মসূচিতে নোমান বলেন, আমরা কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘর ছেড়ে আজ রাজপথে নেমেছে। রাজপথই আমাদের ঠিকানা। যতক্ষণ পারি ততক্ষণ অবস্থান করবো। পুলিশ যেন আমাদেরকে উস্কানি না দেয়। তিনি বলেন, আজকে রাস্তায় নামাটা অসাংবিধানিক নয় এবং আইন বিরোধীও নয়। জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক হওয়া সত্ত্বেও সকল কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি। পেঁয়াজ, চাল, তেল জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এসকল বিষয় নিয়ে আমাদের বিরোধীদলের আন্দোলন করার অধিকার আছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করার অধিকার আমাদের আছে। বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে নোমান আরও বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রমক্ষমতায় নামিয়ে আনুন। এবং দেশ চালাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দিন। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি করছি। এটা সংবিধান বহির্ভূত নয়। তাই আপনাদেরকে আহ্বান জানাবো, আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বাধা না দিয়ে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দিন। আপনাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের উস্কানি প্রত্যাশিত নয়। তার এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরাও চড়াও হলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এর আগে গত রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘মিছিল-সমাবেশ করতে আর কখনও বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি চাইবে না। আমরা আমাদের যখন খুশি তখন সমাবেশ করবো। এটা আমাদের অধিকার, সংবিধান অনুযায়ী অধিকার। তাই সকলকে দল-মত নির্বিশেষে সামনের দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’ মির্জা ফখরুলের সেই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নামে বিএনপি।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *