রোহিঙ্গা সঙ্কটের ১ বছরে ও নেই প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ..!

এস.এম.নাহিদ, টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : একটি বছর কেটে গেল আজ অথচ বিগত এই এক বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নেই কার্যকর কোন উদ্যোগ। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও ফাস্ট’ লেডির ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।এমনকি তারা জাতিসংঘের অবকাঠামো পরিবত’নের কথাও বলেছিলেন। ২৫ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট। এক বছর পূর্ণ করলো- রোহিঙ্গা ঢল। গত বছরের শেষ থেকেই শোনা যাচ্ছিলো দ্রুতই প্রত্যাবাসন করা হবে রোহিঙ্গাদের। প্রক্রিয়াগতভাবে কাজ এগিয়েছে জানা গেলেও মাঠ পর্যায়ে সেই উদ্যোগের নেই দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি। এ অবস্থায় মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।
রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগত নিধন কতটা বর্বর হতে পারে তার উদাহরণ রোহিঙ্গারা। নিষ্ঠুর দমন পীড়নের মুখে কখনো সাগরে ভেসে, কখনো নাফ নদী পাড়ি দিয়ে, কখনোবা মাইলের পর মাইল পাহাড় ডিঙ্গিয়ে; তাদের ঠাঁই এখন বাংলাদেশে।গত বছরের শেষ থেকেই শোনা যাচ্ছিলো মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে রোহিঙ্গাদের। সেই উদ্যোগে গঠিত হয়েছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মিয়ানমার ঘুরে এসেছেন। এসব ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন পর্যায়ে জোর আলোচনা আছে, রোহিঙ্গাদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর বড় বড় আয়োজনও আছে, কিন্তু মিয়ানমারের নানা অজুহাতে কার্যত থেমেই আছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
এক মাস দু’মাস করে এক বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ভার বইছে বাংলাদেশ, কিন্তু এর শেষ কোথায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে কি ব্যর্থ বিশ্ব সম্প্রদায়? সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, সব ব্যর্থ হয়েছে, বলা যাবে না। তবে প্রক্রিয়াগতভাবে আমরা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর সমাধানে জায়গাটায় অথবা তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি লক্ষ্য করছি না। রাখাইনে রোহিঙ্গারা গিয়ে যে থাকতে পারবে সেই পরিস্থিতি এখনও যে নেই তা বোঝা যায় ফেসবুকের হাজারো পোষ্টে।
সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে সেখানে এখনো রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে হিংসা ও বিদ্বেষ। এ অবস্থায় ১০ লাখ মানুষকে নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের যুগ্ম কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র থাকার জায়গা না, তাদের সব কিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই রোহিঙ্গারা নিজস্ব সম্মানে তারা দেশে ফিরে যাক।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের যা করার ছিলো বাংলাদেশ তা করেছে, এখন দায়িত্ব বিশ্ব সম্প্রদায়ের। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান করছেন তারা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির আরো বলেন, মিয়ানমার ৫০০ লোক নিয়ে বলল আমরা নিচ্ছি না। এর প্রক্রিয়া শুরু হওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটা সম্পূর্ণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেটুকু চাপ রাখা দরকার, সেটা বজায় রাখতে হবে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক চাপও অব্যাহত রাখতে হবে।মিয়ানমার যাতে কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে না পারে সেই নজরদারি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের একার নয়।

print

Leave a Reply