Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অবশেষে জয় পেল বাংলাদেশ দল

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অবশেষে জয় পেল বাংলাদেশ দল। জয়ের জন্য শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। স্নায়ুচাপের সেই ওভারে মাত্র ৪ রান খরচ করেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার অসাধারণ বোলিংয়ের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৩ রানের জয় পায় বাংলাদেশ দল।এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ দল। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, এমন ম্যাচে বহু হার দেখেছে বাংলাদেশ। অন্যরকম অভিজ্ঞতা হলো গতরাতে। মোস্তাফিজ ম্যাজিকে পেলো নাটকীয় জয়। মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েসের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার দল জিতল তিন রানে। দুবাইতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন কেবল ৮ রানের। প্রথম বলে এলো দুই রান। পরের বলে চড়াও হতে গিয়ে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিলেন আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরিয়ান রশীদ খান। ৪ বলে ৫ রান করে ফিরেন এই আফগান অলরাউন্ডার।
জয়ের জন্য শেষ ৪ বলে আফগানিস্তানের প্রয়োজন তখন ৬ রান। পরের দুই বলে দুই রান আসলে আফগানদের প্রয়োজন দাড়ায় এক বলে ৪ রান। সেখানে স্নায়ু চাপ ধরে রেখে তিন রানের জয় এনে দিলেন মোস্তাফিজ। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া ওই ম্যাচে জয়ী দল ফাইনাল খেলবে ভারতের সঙ্গে। আবুধাবিতে উত্থান-পতনের নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫০ রানের লক্ষ্য দিতে পারবে কেইবা ভেবেছিল? জবাব দিতে নেমে শুরু থেকে মেপে মেপে পথচলা আফগানরা শেষে এসে হিসাব গরমিল করে ফেলবে, সেটা ভাবাও ছিল কঠিন। বাংলাদেশের ৭ উইকেটে তোলা ২৪৯ রানের জবাবে আফগানদের থামতে হলো ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে। টানা দুই ম্যাচে শেষ ওভারে হেরে আফগানদের এশিয়া কাপ থেকে কান্নাভেজা বিদায় নিতে হলো। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতলেও আর লাভ হবে না।
এদিন ম্যাচের পঞ্চম ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনেদেন মোস্তাফিজ। সপ্তম ওভারে সাকিবের দুর্দাস্ত থ্রোতে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে আফগানিস্তানের। ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তানের হয়ে প্রতিরোধ গড়েছেন মোহাম্মদ শাহজাদ। হাসমতউল্লাহ শহীদীকে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন আফগান ওপেনার। ৭৩ বলে ১৩তম ফিফটিও পেয়েছেন তিনি। এমন সময়ে মাহমুদউল্লাহকে বল হাতে দেন মাশরাফি। আর চতুর্থ বলেই বাজিমাত করলেন ব্যাট হাতে দারুণ ইনিংস খেলা এই অলরাউন্ডার। শাহজাদকে বোল্ড করলেন মাহমুদউল্লাহ। তার স্পিনে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়েছিলেন আফগান ওপেনার। কিন্তু তার লেগ স্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ৮১ বলে ৮ চারে ৫৩ রান করেন শাহজাদ। মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরানোর উল্লাাস বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। হাসমতউল্লাহ শহীদীর সঙ্গে আসগর স্ট্যানিকজাইয়ের ৭৮ রানের জুটি বাংলাদেশেকে অস্বস্থি দিয়েছে। এই জুটি ভেঙেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। স্ট্যানিকজাইকে ৩৯ রানে শর্ট থার্ড ম্যানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান মাশরাফি। হুমকি হয়ে ওঠা হাসমতউল্লাহ শহীদীকে ৭১ রানে বোল্ড করেছেন মাশরাফি মুর্তজা। এই উইকেটের মাধ্যতেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন টাইগার অধিনাযক। ২৫০ রানের টার্গেটে নেমে ৪৪ ওভারে ৫ উইকেটে আফগানিস্তানের রান ১৯৩। শেষ ছয় ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। সেখান থেকে দলকে জয়ের পথ দেখান মোহাম্মদ নবী। নবী ২৮ বলে ৩৮ রান করে সাকিবের বলে যখন আউট হন তখন আফগানদের জয়ের জন্য প্রয়াজন ১০ বলে ১২ রান। শেখ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের প্রয়োজন ছিল আট রান। সেখানে প্রথম বলেই ২ রান দিয়ে বসেন মোস্তাফিজ। পরের চার বলে মোস্তাফিজ যা করলে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
খুলনায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে গিয়েই একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ডাক পান ইমরুল কায়েস। আর সরাসরি একাদশে নেমে ইমরুল অপরাজিত থাকলেন ৭২ রানে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে গড়লেন বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। এ দুইয়ের ষষ্ঠ উইকেটে ১২৮ রানের জুটির সৌজন্যে আফগানিস্তানকে বাংলাদেশ ছুড়ে দেয় ২৫০ রানের লক্ষ্য। অথচ টস জিতে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে বাজে। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে ১৬ রানে। আগের দুই ম্যাচে ১৪ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত গতকালও করেছেন ৬। সাকিব আল হাসানের জায়গায় মোহাম্মদ মিঠুনকে পাঠানো হয় তিনে। ব্যাটিং অর্ডারে পদোন্নতি পেলেও স্কোরে উন্নতি হয়নি, মুজিবুর রহমানের বলে এলবি হয়েছেন মাত্র ১ রানে। ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে যে ধাক্কাটা খেয়েছিল বাংলাদেশ, সেটি সামাল দেয় লিটন-মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে তোলা ৬৩ রানের জুটি। ভালোই এগোচ্ছিল। হঠাৎ ভূতে পেয়ে বসল বাংলাদেশকে! নয়তো কী! ২ উইকেটে ১৮ রান তুলে ফেলার পর বাংলাদেশের ইনিংসে যা ঘটল, তা প্রায় অবিশ্বাস। লিটন দাস আগের বলে চার মেরে পরের বলেই আবার উড়িয়ে মারতে চাইলেন এ সময়ের সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খানকে।
রান হয় না এমন একটা বলে রান নিতে চেয়ে শূন্য রানে রান আউট হলে ফিরলেন সাকিব। এভাবে রান নেওয়ার কোনো মানে হয় না। সাকিবের মতো একই কাজ করলেন মুশফিক নিজেই। ১৪ বল আর ৭ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারাল ৩ ব্যাটসম্যানকে। বাংলাদেশের সামনে যখন লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়া নিয়ে সংশয়, তখনই ইমরুল-মাহমুদউল্লাহর প্রতিরোধ। ষষ্ঠ উইকেটে এই জুটি ১২৮ রান যোগ করেই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এটাই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। এর আগে ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ উইকেটে আল শাহারিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন। মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন ৭৪ রান করে। তবে ইমরুল অপরাজিত ৭২ রান করে। ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশ: ২৪৯/৭

আফগানিস্তান: ২৪৬/৭

ফল: বাংলাদেশ ৩ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (বাংলাদেশ)

হাশমতকে ফেরান মাশরাফি

ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন হাশমতউল্লাহ। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৭ রানের ইনিংস খেলা এ ব্যাটসম্যান বাংলাদেশ দলের বিপক্ষেও অসাধারণ ব্যাটিং করেন। আফগান এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান মাশরাফি। অবশ্য তার আগে ৯৯ বলে ৭১ রান করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে আসেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

আসগরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মাশরাফি

জয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। বাজে বোলিং এবং ছন্নছাড়া ফিল্ডিংয়ের কারণে আফগানদের লাগাম টেনে রাখতে পারছিল না বাংলাদেশ দল। ২০ রানে দুই উইকেট হারানোর পর খেলায় ফেরে আফগানরা।

চতুর্থ উইকেট হাশমতউল্লাহর সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন আসগর আফগান। মাশরাফি মতুর্জার বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন আসগর। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৭ বলে ৩৯ রান করেন আফগানিস্তানের এ অধিনায়ক।

বোলিংয়ে এসেই শাহজাদকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ

দলীয় ২৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বসা আফগানিস্তানকে খেলায় ফেরান শাহজাদ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাশমতউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে ৮১ বল খেলে ৮ চারের সাহায্যে ৫৩ রান করেন শাহজাদ।

সেই শাহজাদের ফিফটি

আফগানিস্তানের অন্যতম সেরা ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। মারমুখি এই ব্যাটসম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করেন মোহাম্মদ মিঠুন। ইনিংসের ৩.২ ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন শাহজাদ। কিন্তু ফিল্ডার মিঠুন ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। বাতাসে ভাসা বলটি মিঠুনের দুই হাতের ফাক গলে মাথায় আঘাত হানে।

৯ রানে নতুন জীবন পাওয়া শাহজাদ সুযোগকে কাজে লাগান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৩তম ফিফটি তুলে নেন আফগানিস্তানের এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

সাকিবের দুর্দান্ত ফিল্ডিং, রান আউট রহমত

সাকিব আল হাসানের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়ে সাজঘরে রহমত শাহ। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট হন আফগান এই ব্যাটসম্যান। ৯ বলে ১ রান করেই সাজঘরে রহমত। ৭.২ ওভারে দলীয় ২৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।

প্রথম বলেই মোস্তাফিজের উইকেট

আফগানিস্তানের দলীয় ২০ রানে ওপেনার ইহসানউল্লাহর উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসেই সাফল্য পান দ্য ফিজ খ্যাত এ পেসার। এই কাটার মাস্টারের বলে পয়েন্টে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন এহসান।

শাহজাদের ক্যাচ ফেলেন মিঠুন

আফগানিস্তানের অন্যতম সেরা ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। মারমুখি এই ব্যাটসম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস করেন মোহাম্মদ মিঠুন। ইনিংসের ৩.২ ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন শাহজাদ। কিন্তু ফিল্ডার মিঠুন ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। বাতাসে ভাসা বলটি মিঠুনের দুই হাতের ফাঁক গলে মাথায় আঘাত হানে। ৯ রানে নতুন জীবন পান শাহজাদ।

ইমরুল-রিয়াদের ব্যাটে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ১৮ রানে দুই উইকেট পড়ে গেলে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিমর ও লিটন দাস। তৃতীয় উইকেটে তারা ৬৩ রান যোগ করেন। এরপর ৬ রানের ব্যবধানে ফেরেন লিটন, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। লিটন-মুশফিকরা ৪১ ও ৩৩ রান করে করলেও শূন্য রানে ফেরেন সাকিব।

৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে থাকা বাংলাদেশ দলকে খেলায় ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়ার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে বড় অবদান রাখেন তারা।

রিয়াদ ৭৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যাওয়া ইমরুল কায়েস করেন ৮৯ বলে ৭২ রান। তাদের জোড়া ফিফটিতে ৭ উইকেটে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ২৪৯ রান। জয়ের জন্য আফগানিস্তানকে করতে হবে ২৫০ রান।

জুটির রেকর্ড গড়ে সাজঘরে মাহমুদউল্লাহ

আফতাব আলমকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। সাজঘরে ফেরার আগে ৮১ বল খেলে তিন চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে ৭৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। তার আগে কায়েসের সঙ্গে ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন রিয়াদ।

এর আগে ১৯৯৯ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন আল শাহরিয়া এবং খালেদ মাসুদ পাইলট।

গত ১৯ বছরে তাদের সেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেননি। রোববার সেই রেকর্ড ভেঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ১২৮ রানের জুটি গড়েন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ইমরুলের ১৫তম ফিফটি

হঠাৎ করেই জাতীয় দলে সুযোগ পান ইমরুল কায়েস। দুবাইয়ে এশিয়া কাপে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শর্ট নোটিশে খুলনা থেকে উড়িয়ে নেয়া হয় তাকে।

আগের দিন দুবাই পৌঁছানো কায়েস রোববার খেলতে নেমে যান। এদিন ইনিংসের শুরুতে তার ভুল কলে সাড়া দিতে গিয়ে ‍রান আউট হয়ে ফেরেন অসাধারণ খেলতে থাকা মুশফিকুর রহিম।

এরপর বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন ইমরুল কায়েস। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১২৪ রানে জুটি গড়েছেন তারা।

মাহমুদউল্লাহর ২০তম ফিফটি

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরেছেন এ অলরাউন্ডার। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন রিয়াদ।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬০তম ম্যাচে ফিফিটি তুলে নেন রিয়াদ। এই ম্যাচের আগে ১৫৯ ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরি এবং ১৯টি ফিফটির সাহায্যে ৩ হাজার ৪৯০ রান করেন তিনি।

মুশফিকের বিতর্কিত আউট

ইমরুল কায়েসের ভুল কলে সাড়া দিতে গিয়ে রান অাউট হন মুশফিকুর রহিম। দুর্দান্ত খেলতে থাকা মুশফিকুর রহিমের আউট নিয়ে বিতর্ক আছে।

রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রশিদ খানের হাত স্ট্যাম্পে আঘাত হানার আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। কয়েকদফা রিভিউ দেখেও আউটের সিদ্ধান্ত দেন টিভি আম্পায়ার শন জর্জ। সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফের বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে খেলায় ফেরান লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ৪১ রান করে লিটন বিদায় নেয়ার পর কোনো রান যোগ করার আগেই ফেরেন সাকিব আল হাসান। শূন্য রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে সাকিব।

দুই রানের ব্যবধানে ২ উইকেট নেই

এশিয়া কাপে চরম ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে ৭ রান করে আউট হওয়া তরুণ এ ওপেনার আজ আফগানদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেরেন মাত্র ৬ রান করে। আফতাব আলমের গতির বলে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত।দুই রানের ব্যবধানে ২ উইকেট নেই

এরপর দুই রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৬৩ রান করা মিঠুন নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না।

আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে ২ ও ৯ রান করে আউট হওয়া মিঠুন রোববার বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে ফেরেন মাত্র ১ রান করে। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন মিঠুন।

বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক-রুবেল, খেলছেন ইমরুল-অপু

সুপার ফোরের চতুর্থ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার পরিবর্তে দলে ফেরেন ইমরুল। এছাড়া পেস বোলার রুবেল হোসেনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পান নাজমুল ইসলাম অপু।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত মাশরাফির

এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে হলে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশে দলের। সুপার ফোরের প্রথম খেলায় ভারতের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় মাশরাফিদের জন্য রোববার বাঁচা-মরার লড়াই।

এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম অপু।

আফগানিস্তান একাদশ: মোহাম্মদ শাহজাদ, ইহসানউল্লাহ, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমান।

print

Leave a Reply