Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু


টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী, দুইজন শিশু ও ৪ জন বৃদ্ধ। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুন লাগার ঘটনায় সহস্রাধিক ঘর পুড়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮৬টি ব্লকে ৯ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। এর মধ্যে স্থানীয়দের বাড়িঘরও রয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা ঘরছাড়া হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে আশপাশের বাড়িঘর এবং কেউ কেউ ট্রান্সজিট ক্যাম্প ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।


রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উখিয়া অংশে নিয়োজিত ১৪ এপিবিএনর অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন শিশুসহ ৭ জনের নিহতের খবর আসলেও এখন মৃতদেহগুলো দেখিনি।
সোমবার বিকাল চারটার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮-ই ও ডাব্লিউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৯ ও ১০ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও। রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে গেছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর। এছাড়াও পুড়ে গেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক।
আগুনে পুরো ক্যাম্প এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অনেকে অন্য ক্যাম্পেও আশ্রয় নিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা শিশু-নারী-পুরুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছোটাছুটি করে। এ সময় অনেক শিশু হারিয়ে গেছে বলে স্বজনরা জানান।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, প্রাণান্ত চেষ্টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা মুশকিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মো. হামিদ জানান, আগুনে তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ৫ শতাধিক ঘরসহ অন্তত এক হাজারেরও বেশি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় মার্কেট বালুখালী বলিবাজার। এতে অর্ধশতাধিক কোটি টাকা মূল্যের মালামাল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার হয়েছে তিন শিশুসহ সাতজন। মরদেহগুলো রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার হয়।
কক্সবাজারস্থ অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দৌজা নয়ন। তবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।


বালুখালী ৮নং ক্যাম্প থেকে পালিয়ে পানবাজার এলাকায় আশ্রয় নেওয়া সফিকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেখানে তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার সাত বছরের শিশু হারিয়ে যায়। নূরুল আলম জানান, ছয় বছরের মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে সন্তান খুঁজতে অসংখ্য বাবা-মাকে দেখা গেছে। জেলা প্রশাসক, শরণার্থী ও ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের উখিয়ার ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান জানান, পাঁচ শতাধিক ঝুপড়ি ঘর পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি শিশুসহ দুইজনের মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা পর্যন্ত শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারো পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘর ও দোকানপাট পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এনজিওর কয়েকটি ভবনেও আগুন লেগেছে। ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওদের সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেটর গ্রুপের (আইএসসিজি) ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার সৈয়দ মো. তাহফিম জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ৮-ই ক্যাম্পে আগুন লাগে। তা দ্রুত ৮ ডব্লিউ ক্যাম্পে ছড়ায়। বাতাসের বেগে তা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৯ ও ১০ নম্বর ক্যাম্পে। তিনি আরও জানান, আগুনের ভয়াবহতা বাড়ার সঙ্গে রোহিঙ্গারা ছোটাছুটি করেন। তারা শুধু ব্যবহারের কাপড় ও সামনে পাওয়া প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে বিভিন্ন ব্লক থেকে রোহিঙ্গা সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা সড়কের ওপর চলে আসায় যানবাহন চলাচলে চরম ব্যাঘাত হয়।

print

Leave a Reply