অরূপরতন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা: হাসানুল হক ইনু

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: ডা. অরূপরতন চৌধুরী বহুগুণে গুণান্বিত ব্যক্তিত্ব। মাদকবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক এ চিকিৎসক একাত্তরে তার কণ্ঠ দিয়ে সুরে সুরে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ শব্দসৈনিকের জন্মদিন উদ্যাপিত হল গান, ফুলেল শুভেচ্ছা আর কথামালায়। বুধবার বিকালে নগরীর বারডেম অডিটরিয়ামে মাসিক সঙ্গীত পত্রিকা সরগম এ জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, অরূপরতন জন্মগ্রহণ করেছেন এমন এক পরিবারে, যারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো দিক দিয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন। অরূপরতন একাধারে দন্ত চিকিৎসক, লেখক ও সঙ্গীতশিল্পী। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কণ্ঠ যে অবদান রেখেছে, তার জন্য আমরা গর্ব করি। মাদকের বিরুদ্ধে তিনি যে আন্দোলন করে চলেছেন, তাও দেশের জন্য একটা বড় কাজ।
হাসানুল হক ইনু বলেন, অরূপরতন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা। গান ও মাদকবিরোধী সংস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। দেশের মাদকবিরোধী যুদ্ধের একজন সামনের কাতারের সৈনিক। এ সংগ্রাম আমাদের দেশে আরও জোরালো হবে এ প্রত্যাশা করি।
জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করে অরূপরতন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি যখন যুদ্ধে গিয়েছিলাম তখন বয়স ১৮ বছর। এখন এ বয়সে অনেক তরুণ মাদকে আসক্ত। এ মাদকের বিরুদ্ধে লড়ে যাব আজীবন। আমার নেশা গান, পেশা চিকিৎসা ঠিক রেখে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।এছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ফকির আলমগীর, আরেক শব্দসৈনিক কল্যাণী ঘোষ, বারডেমের প্রাক্তন ডিজি প্রফেসর নাজমুন নাহার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি’ রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে সরগম সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা। এরপর একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী উল্কা হোসেন ও অনুরাধা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরগম সম্পাদক রওনাক হোসেন।
নাটক ‘জবর আজব ভালোবাসা’ মঞ্চস্থ : থিয়েটারওয়ালা রেপার্টরির প্রযোজনায় শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়ন হল রেপার্টরি নাটক ‘জবর আজব ভালোবাসা’। বুধবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি।আন্তন চেখভের ‘দ্য বিয়ার’ অবলম্বনে নাটকটির অনুবাদ করেছেন মোবারক হোসেন খান এবং রূপান্তর ও নির্দেশনায় ছিলেন সাইফ সুমন।প্রয়াত স্বামীর শোকে সারাক্ষণ বিলাপ করতে থাকা গৃহকর্ত্রী প্রভার ওপর ভীষণ বিরক্ত বাড়ির কেয়ারটেকার সবুর। সবুরের কাছে জীবন মানে খাও-দাও ফুর্তি করো। কিন্তু গৃহকর্ত্রী প্রভা মৃত স্বামীর শোকে এতটাই কাতর যে, সবকিছু ভুলে সে গৃহবন্দি জীবনযাপন করে।
বাসার বাইরে যাওয়া তো দূরের কথা, বাসায় কেউ এলে সে দেখা পর্যন্ত করে না। একদিন সন্ধ্যায় কঁাঁটাবনের অ্যানিমেল ফুড ব্যবসায়ী নাভিদ বাসায় আসে প্রভার সঙ্গে দেখা করতে। নাভিদ জানায়, প্রভার স্বামী তার দোকান থেকে কুকুরের জন্য নিয়মিত খাবার কিনতো এবং বকেয়া বিল বাবদ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা পাওনা আছে। প্রভা জানে তার স্বামীর প্রচুর কুকুরপ্রীতি ছিল।সে জানায়, টাকাটা শোধ করে দেবে কিন্তু তাকে দু’দিন সময় দিতে হবে। নাভিদও নাছোড়বান্দা, সে টাকা না নিয়ে যাবেই না। এভাবেই বিন্যস্ত হয়েছে তিনজনের অভিনয়ের ‘জবর আজব ভালোবাসা’ নাটকের কাহিনী। নাটকটির তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের রামিজ রাজু, নাট্যকেন্দ্রের সঙ্গীতা চৌধুরী ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের সাইফ সুমন। অন্যদিকে একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় আরণ্যক নাট্যদলের নাটক ‘দি জুবিলী হোটেল’।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *