Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : এবার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভয়ঙ্কও রূপ নিয়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। করোনার তৃতীয় ঢেউ হবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের কাছে আরো ভয়াবহ অবস্থা। তাই বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ গোটা ইউরোপ এবং অ্যামেরিকা জুড়ে তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। প্রতিদিনই দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে আরো বেশি ভয়ঙ্কও রূপ নিয়ে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেশে আসার আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে দেশের জন্য খুব খারাপ অবস্থা হবে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার দিকে হাঁটছে বিভিন্ন দেশ।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস রোগের তীব্রতা আরো বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ হয়েই রোগীরা খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করছে। আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। শ্মশাস ও গোরস্থানে সৎকারের অপেক্ষায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। করোনার প্রভাব সামান্য কমতেই দেশের মানুষ সমস্ত নিয়ম মানা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সকলে রাস্তাঘাটে বেরিয়ে পড়েছিলেন। নিরাপদ দূরত্ব মানা, মাস্ক ব্যবহার করার মতো নিয়মগুলি কেউ মানেননি। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে এখন দেশের মানুষকে।
শুধু বাংলাদেশই নয় সারা বিশ্বজুড়ে আবারো ভয়ঙ্কর হচ্ছে মহামারি করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এরইমধ্যে আবারো ভয়াবহ দুঃসংবাদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি সেবা’র কার্যক্রমের প্রধান ডা. মাইক রায়ান বলেছেন আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে শিগগিরই প্রতি সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আশঙ্কা এবার করোনার সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার দিকে হাঁটছে বিভিন্ন দেশ।
ইউরোপ ও আমেরিকার মতোই এশিয়ার নানা দেশে ফের করোনা বিস্তারের আলামত দেখা যাচ্ছে। ভারতের কয়েকটি রাজ্যে করোনার নতুন ধরণের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি অবনতিশীল বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ভারতে মৃত্যু ও শনাক্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কোনভাবে মৃত্যুও সংখ্যা কমছে না। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিককালে সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ফলে টিকাকরণের পাশাপাশি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপর একটি সূত্র জানায়, প্রথম করোনা শুরু হলে সারা বিশ্বে শুরু হয়ে যায় লকডাউন। এক বন্দি হয়ে পড়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। অফিস-আদালতসহ সব বন্দ থাকে। তবে করোনাভাইরাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর সব খুলে দেয়া হয়। আস্তে আস্তে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শরু করে। আর এর প্রেক্ষিতে বিশ্ব দেখলো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে আরোও সংক্রামন ও মৃত্যু ভয়াবহ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখন দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সবাইকে। এরই মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে দেশের মানুষকে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আরো ভয়াবহ হবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে। এমনটা দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তাই তিনি করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দেশে দ্বিতীয় ঢেউ এলো। এখন তৃতীয় ঢেউয়ে যেন আক্রান্ত না হই সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ। দিনে প্রায় শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এটি প্রথম ঢেউয়ের কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনার তৃতীয় ঢেউ আসা নিয়ে সতর্ক করলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা দ্বিতীয় ঢেউ কেন এলো, এখনই এর কারণ কী সেটা চিহ্নিত করতে হবে। আমরা করোনার বিস্তার রোধে বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করেছি। জনসমাগম নিরুৎসাহে সব ধরনের সভা-সমাবেশ সীমিত করা হয়েছে। করোনার উৎপত্তি স্থানগুলোসহ পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলসহ সব ধরনের মেলা, পিকনিক বন্ধ রয়েছে। এভাবে কিছুদিন চললে আশা করা যায় করোনা সংক্রমণের হার কমে আসবে।
অপরদিকে, ইরানে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধে রাজধানী তেহরানে বিয়ে ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। গতকাল দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি করোনা প্রতিরোধে নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছেন। দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টিতে আগামী বুধবার থেকে ১০ দিনের জন্য এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
এদিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইউরোপে করোনার টিকাদানে ধীরগতি এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ফলে সংক্রমণ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ফ্রান্সের ১৬টি এলাকার দুই কোটি ১০ লাখ মানুষের ওপর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আংশিক লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসও রয়েছে। সেখানকার স্টেশনগুলো থেকে রেল বোঝাই লোকজনকে লকডাউন শুরুর আগেই শহর ত্যাগ করতে দেখা গেছে। ব্রিটানি কিংবা লিয়ঁর মতো যেসব জায়গায় সংক্রমণ কম – তারা সেখানে চলে যাচ্ছেন। তবে ফ্রান্সের এই নতুন বিধিনিষেধ আগের লকডাউনের মতো অতোটা কঠোর নয়। এবার মানুষকে বাজার করা এবং ব্যায়াম করতে দেওয়া হচ্ছে। ফ্রান্সে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চার কোটি ২০ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
পোল্যান্ডে তিন সপ্তাহের এক লকডাউন চালু হয়েছে। জরুরি নয় এমন সব দোকানপাট, হোটেল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া ক্ষেত্রগুলো তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার ব্রিটিশ ধরনটি খুবই সংক্রামক বলে লকডাউন দিতে হচ্ছে।
জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাব অনুযায়ী, মোট সংক্রমিত লোকের শতকরা ৬০ ভাগ এই নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন। পোল্যান্ডে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪৯ হাজার। জার্মানিতেও সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে লকডাউন আরোপের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বেলজিয়াম ও সুইটজারল্যান্ডে করোনার বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রিটেন, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসহ একাধিক ইউরোপিয়ান দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভও হচ্ছে। এগুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়েছে। এসব বিক্ষোভের সময় জলকামান নিক্ষেপ, পুলিশের লাঠিচার্জ ও বেশ কিছু লোকজনকে আটকের ঘটনা ঘটেছে।

print

Leave a Reply