প্রিন্ট প্রিন্ট

সোনালী আঁশে মজবুত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের অঞ্চল বাংলাদেশে এর সুদিন ফিরে আসতে শুরু করেছে। পাটের অর্থনীতি দেশের গোটা অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা অনেকটাই চাঙ্গা হয়েছে। পাটের উৎপাদনের পাশাপাশি মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ‘বস্ত্র আইন-২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় এ খাতে আরও উন্নয়নের আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের। সবমিলিয়ে অধিক ফলন ও মূল্য বেশি হওয়ায় এক কোটি পাট চাষীও খুশি। তারাও তাদের অবস্থার উন্নতির স্বপ্ন দেখছেন।
স্বাধীনতার পর চলতি বছরেই প্রথমবারের মতো মণপ্রতি পাট সর্বোচ্চ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। এ বছর মণপ্রতি সাড়ে ৮শ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে পাটের ফলনও হয়েছে বাম্পার। ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ৯৬ হাজার ৩৯৬ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। ফলে ৭৭ লাখ বেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮০ লাখ বেল ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি জমির পাট কাটা হয়ে গেছে। পাটের ফলন ভালো ও বেশি মূল্য পাওয়ায় এবার পাট কাঁটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, শুকানো এবং বিক্রির কাজে গতবারের চেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন অসুবিধা হচ্ছে না বলেই জানাচ্ছেন তারা।
পাটের দাম বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে ২ হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা, যা বিএনপির আমলে ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। উৎপাদনও সে আমলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ ২০০৫ সালের ০.৯ মিলিয়ন টনের স্থলে ২০১৮ সালে ১.৭ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়েছে। পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ পদক্ষেপের কারণে আজ পাটজাত পণ্যের সংখ্যা ২৪০-এ এসে দাঁড়িয়েছে, যা বিএনপি আমলে হাতে গোনা ১৫ থেকে ২০টি ছিল। এটাও অত্যন্ত আশাপ্রদ ব্যাপার।
পাট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে পাটের উৎপাদন ভালো ও মূল্য বেশি হলে আগামী বছর বছরও পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম জানিয়েছেন, পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টির কারণে দেশে পাটের চাহিদাও বেড়ে গেছে। ফলে কৃষক তাদের উৎপাদিত পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন। আর ভালো দাম পাওয়ায় তারা অধিক পাট চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন, কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন, রফতানি বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরে পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, পাটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশ থেকে পাট রফতানি, আমদানিকারক দেশের সংখ্যা ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করেন প্রতিমন্ত্রী।
কাঁচাপাট রফতানি নিষিদ্ধ ও ৬টি পণ্যে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকর করায় পাটের সুদিন ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লে¬ষকরা।
দেশের হাট-বাজারগুলোতে ইতোমধ্যে পুরোদমে পাট উঠতে শুরু করেছে। দেশের বড় পাটের মোকাম নারায়ণগঞ্জে পুরোদমে চলছে পাট কেনাবেচা। মোকামগুলোতে রমজানের ঈদের পর পাটের আমদানি বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েকগুণ।
দীর্ঘদিন পর চলতি বছর পাটের কাঙ্খিত দাম পেয়ে কৃষকের মুখেও হাসি ফুটেছে। বর্তমানে মণপ্রতি পাট সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। স্বাধীনতার পর যেকোনো মৌসুমে এটাই পাটের সর্বোচ্চ দাম। বাজারে নতুন পাট বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দামে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদা পূরণ, রফতানি বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বস্ত্র খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বস্ত্রশিল্পে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ, বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী বস্ত্র উৎপাদন ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে বুধবার জাতীয় সংসদে ‘বস্ত্র আইন-২০১৮’ পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় বায়িং হাউজ নিবন্ধন, পরীক্ষাগার ও তথ্য ভাÐার প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংরক্ষণ, গবেষণা, পরিদর্শন, প্রণোদনা ইত্যাদি বিষয়ে আরও অধিক কার্যক্রম গ্রহণ করবে বস্ত্র অধিদফতর। এছাড়া বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ ফ্যাশন ইনস্টিটিউট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপনের উদ্যোগও নেয়া হবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইনে বস্ত্র অধিদফতরের কার্যাবলি যেমন বস্ত্রখাতে বিনিয়োগ, উন্নয়ন, বিপণন, পরিবহন, জাহাজিকরণ, তদারকি ও সহায়তা প্রদান ইত্যাদি সন্নিবেশ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত¡ মিলগুলোর ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও আধুনিকায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে জি টু জি সহ বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও সমন্বয়, কাঁচামাল আমদানি ও রফতানি, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা ইত্যাদি আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ

চিত্র নায়িকা মুনমুনের স্বপ্ন ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক হবার !

কড়া নিরাপত্তায় নগরীতে থার্টিফাস্ট নাইট !