মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিং

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, স্পোর্টস রিপোর্টার: মানসিক চাপ নিতে পারেন না বলে তাকে অনেক সময় বিদ্রূপের শিকার হতে হয়। কিন্তু কখনও কখনও দলের ভীষণ প্রয়োজনের মুহূর্তে মুশফিকুর রহিমের øায়ু হয়ে যায় ইস্পাতকঠিন।

শনিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে দেখা গেল মুশফিকের সেই লড়াকু চেহারাটা। শতভাগ ফিট না হয়েও দক্ষতা, ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা ও চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ের অপূর্ব মিশেলে অসাধারণ একটি ইনিংস উপহার দিলেন তিনি বাংলাদেশকে।

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন ক্যারিয়ারের সেরা ১৪৪ রানের মহাকাব্যে। মুশফিকের মতো মোহাম্মদ মিঠুনও খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ৬৩ রানের ইনিংস।

তামিম ইকবাল মাঠ থেকে হাসপাতাল ঘুরে আবার মাঠে ফিরে চার বলে দুই রানের একটি অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দিতে রাখলেন অবদান। দুঃস্বপ্নের শুরুর পরও দুবাইয়ে মরুর বুকে ফুটল লাল-সবুজের ফুল।
এক রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখান মুশফিক ও মিঠুন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩১ রানের জুটি টেনে তোলে দলকে। মিঠুনের বিদায়ে এই জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও অনবদ্য মুশফিক একাই হতাশায় ডোবান লংকান বোলারদের। পাঁজরের ব্যথা নিয়েই খেলেন রঙিন পোশাকে নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

অথচ মরুর বুকে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল ভয়ঙ্কর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই লাসিথ মালিঙ্গা হয়ে উঠলেন বিধ্বংসী। প্রথম ওভারেই লিটন ও সাকিবকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

দুই ওভারে বাংলাদেশের স্কোরটা ছিল বড় ভীতিজাগানিয়া! তিন রানে দুই উইকেট। আসলে তখন বলা যায় তিন রানে তিন উইকেট! কারণ চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া তামিম সরাসরি চলে যান হাসপাতালে।

বাংলাদেশ ১০০ রানও করতে পারে কিনা, এ সংশয় গাঢ় হচ্ছিল। তখন চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মিঠুনের প্রতিরোধ। চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল মাত্র ২৪।

তবে পিচ্ছিল ছিল লংকান ফিল্ডারদের হাতও। অনন্ত তিনটি ক্যাচ মিস করেছে তারা। আর সুযোগটা দারুণ কাজে লাগিয়েছেন মুশফিক ও মিঠুন। ক্যারিয়ার সেরা ৬৩ রান করে মিঠুন দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং আসা মালিঙ্গার শিকার হন। ভাঙে চতুর্থ উইকেট জুটি।

আবারও চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তবে এক পাশ আগলে রেখে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিক। বাংলাদেশ থামতে পারত ২২৯ রানেই, নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজ আউট হওয়ার পর।

তখনই বিস্ময় ছাড়িয়ে ডান হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন সাহসী তামিম। ব্যাট করেন এক হাতে। খেলেছেন মাত্র একটি বল। তবে সেটাই তখন দলের জন্য ছিল সবচেয়ে কার্যকরী। সঙ্গ পেয়ে মুশফিক চার-ছয়ে তুলে নেন ৩২ রান।
শুরুতে চোট পাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তামিমকে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কব্জির হাড়ে চিড় ধরা পড়ে। ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তামিমকে।

print

Leave a Reply