অসুরের বিরুদ্ধে মাঙ্গলিক চেতনার অনিবার্যতা

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহ্: আমাদের স্বাধীকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনাই হচ্ছে প্রগতিশীলতা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ। নেতিবাচক/খারাপ/বিপদজনক চরিত্রের মানুষরা সচারচর চরিত্রগতভাবে দুই মাথা বিশিষ্ট সাপের ন্যায় বিষাক্ত ছোবলধারী, গিরগিটির মত সময়, পরিস্থিতি, স্বার্থ সুবিধা বুঝে মুখ-শরীরের রঙ পরিবর্তনকারী এবং পাছে লোকে কিছু বলের মত পিছুমুখী রক্ষণশীল, সুবিধাবাদী, ধান্ধাবাজ, মুখোশ পরিহিত ছদ্দবেশধারী বিশ্বাসঘাতক হয়ে থাকে। এরা সবার সামনে/বাইরে এক রকম কথা বলে/কাজ করে, বিজ্ঞ জ্ঞানী/বন্ধু/হিতাকাঙ্ক্ষী ভাল/বোকা/ধার্মিক/সাধু মানুষের মুখোশ পড়ে থাকে/ছদ্দবেশ ধরে থাকে। আর ভেতরে ভেতরে/পেছনে/নেপথ্য/আড়ালে নিকৃষ্ট/জঘন্য মানসিকতা সম্পন্ন হয় এবং নানা অপকর্ম করে/অঘটন ঘটিয়ে বেড়ায়। একইভাবে এরা যেকোন ব্যাপারে নিজের জন্য এক রকম আর অন্যের ব্যাপারে ভিন্নতর/স্বতন্ত্র/বিপরীতমুখী চিন্তা/মূল্যায়ন/বিচার করে থাকে।

এরা আপনার সামনে আপনার প্রশংসা, চাটুকারীতা করবে এবং অন্যের সমালোচনা/নিন্দা করবে/তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা-মজা করবে। আবার আপনার পেছনে তাদের/অন্যের কাছে আপনাকে নিয়ে নিন্দা/সমালোচনা, হাসি-ঠাট্টা-মজা করবে এবং তখন তাদের সামনে তাদের চাটুকারীতা/দালালী করবে। এরা সর্বদা বিভিন্ন অজুহাত তুলে, নিজের অবস্থান ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আবার কখনো বিত্তশালী/ক্ষমতাবানদের পক্ষে/তাদের চাটুকারীতার মাধ্যমে/উস্কানীতে অন্যকে অপমান করে, অপবাদ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখার, নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতি করার সুযোগ/পথ/কৌশল/ধান্ধা খুজে/অপচেষ্টা করে। এরা নিজেকে/অন্যকে নিয়ে অথবা নিজের/অন্যের কোন ব্যাপার নিয়ে অযথা আত্নদম্ভ, চাপাবাজী, ফটকাবাজী, মাতাব্বরী, মিথ্যা বড়াই করে বেড়াতে এবং মানুষের সামনে সো অফ/বাইলা ফুটানী/অভিনয় করতে, দেখাতে পছন্দ করে।

এরা সবার মাঝে কথা বলার/আড্ডা দেয়ার/আলোচনার সময় সুযোগ পেলেই কথাবার্তা/গল্পগুজব/হাসিঠাট্টার ছলে/কৌশলে নানাভাবে অন্যকে নিচু/ছোট/তুচ্ছ/দুর্বল দেখানোর, অপমান/অপদস্ত/হেয় করার কুমতলব আটে/ষড়যন্ত্র/অপচেষ্টা করে। অন্যের সমস্যা, বিপদ, দুর্বলতা, দুঃখ-কষ্ট, বেদনা-দুর্দশা দেখে মনে মনে বিকৃত আনন্দ, মজা পায় এবং এইসব ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কৌতুহলী হয়, হস্তক্ষেপ করে। আর তা নিয়ে বিকৃত আনন্দে একজনের কাছে আরেকজনের/তার পরিবারের নামে নানা রকমের রসালো গল্প, হাসি-ঠাট্টা-মজা করে এবং মিথ্যাচার করে, গল্প রটিয়ে, গুজব ছড়িয়ে বেড়ায়। এগুলোকে আবার একশ্রেণির রুচি/মূল্যবোধ/চরিত্র/মনুষ্যত্বহীন অসভ্য অমানুষ গল্প, হাসি-ঠাট্টা- মজা করার, আড্ডা ও আলোচনার টপিক্স/বিষয়বস্তু মনে করে। এরা নিজের প্রয়োজনে/স্বার্থ উদ্ধারে যে কাওকে কাজে লাগিয়ে কাজ শেষে তাকেই হেয় প্রতিপন্ন করে থাকে। এই অতি চালাক/উৎসাহী/মাতাব্বররা অনেকক্ষেত্রেই বুঝে না/বুঝে উঠতে পারে না যে, কখন? কোথায়? কোন? কথাটা বলা/কাজ করা সঠিক/ভুল?

এই ধরনের অতি চালাক/নেতিবাচক চরিত্রের লোকদের কার্যত কোনপ্রকার বিবেক, নৈতিক চরিত্র, মনুষ্যত্ববোধ এবং ব্যক্তিত্ব নেই। তারা অনেক সময়/ক্ষেত্রে নিজেদের কুটচাল/ষড়যন্ত্রের পাতা চালে/জালে/ফাদে/পাতানো খেলায় নিজেরাই ধরা খেয়ে/আটকে/বিপদে পড়ে/হতচকিত হয়ে/বেকুব বনে যায়। তখন তারা দ্রুত ভোল পাল্টে নিজেদের সব অন্যায়, অপকর্মকে হাসি-ঠাট্টা-মজা, ভুল, বেখেয়াল বলে, মাফ চেয়ে পার পেয়ে যাবার চেষ্টা, তদবির, মিথ্যাচার করে। সমাজের এইসব ব্যক্তি/গোষ্ঠীর অনাকাঙ্ক্ষিত, অন্যের জন্য মানহানিকর, ক্ষতিকর কথাবার্তা, কাজকারবার, প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাবের বিরুদ্ধে সমাজে নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ শান্তিপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণ মানুষের বিরূপ ধারনা ও বিক্ষুদ্ধতা আছে। তবে তারা অধিকাংশক্ষেত্রে পারিবারিক, আত্নীয়তা, সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য, ধর্মাবেগ, প্রচলিত আচার-প্রথার প্রভাব, প্রতাপশালী, শক্তিশালী বন্ধু, আত্নীয় হবার কিংবা রাজনৈতিক কারণে, ভয়ে চুপ করে থাকে/থাকতে বাধ্য হয়।

তাই আমরা আমাদের নিজ নিজ ব্যাপার/ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে এবং সাহস করে সর্বক্ষেত্রে খারাপ মানুষের কুচিন্তা, কুকথা, কুকাজ এবং এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট, জোড়ালোভাবে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে এবং তাদের সাথে যথাসম্ভব সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে/পরিত্যাগ করতে উদ্যেগী হতে পারি। আমরা আমাদের জীবন, পরিবার, আত্নীয়-পরিজন, বন্ধুু, সমাজ বন্ধন এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক আয়োজন, অনুষ্ঠান, আড্ডা থেকে এসব নেতিবাচক লোকদের এভয়েট/এড়িতে চলতে, বয়কট/পরিত্যাগ করে চলার সাহস ও চেষ্টা করতে পারি। তাহলে এই সমস্ত নেতিবাচক চরিত্রের লোকরা একপ্রকার পারিবারিক/সামাজিক অবরোধ, চাপের মধ্যে পড়বে। তাদের মধ্যে অস্বস্থ্যি, ভীতি, হতাশার সঞ্চার হবে। তখন তারা তাদের নিজেদের কুচরিত্র, কুকথা, অপকর্মের খারাপ দিক, ভুল, অন্যায়, অপরাধ সম্পর্কে সম্মুখ উপলব্দি, পর্যালোচনা করতে এবং সোজা ও ভাল হয়ে সুপথে চলতে বাধ্য হবে।

এতে ধীরে ধীরে আমাদের সমাজ জীবনে ভাল, সুন্দর, উদার, কল্যাণকর, সৃজনশীল চিন্তা, রুচি, মূল্যবোধ, সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে। সমাজে নেতিবাচক লোকদের নেতিবাচক চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা, কাজ কারবারের অপতৎপরতা, কুপ্রভাব হ্রাস পাবে। সমাজ জীবনের সর্বস্তরে সর্বপ্রকার অশুভ অসুর শক্তির বিরুদ্ধে মাঙ্গলিক চেতনার উন্মেষ ঘটবে এবং মনস্তাত্ত্বিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, লড়াকু মানসিকতা মানুষের মানবিক চৈতণ্যে/চিন্তা জগতে নবজাগড়ণের সূচনা করবে। পুরানো জড়াজীর্ণতা, রক্ষণশীলতাকে মারিয়ে এক নতুন সুন্দর নির্মল প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধির সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। ভাল লাগলে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করুন।
asifultasin18@gmail.com

print

Leave a Reply