স্বাস্থ্য

বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত বিস্ময়কর ওষুধে অনেকের ক্যান্সার নিরাময়!

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশী গবেষক এবং বিজ্ঞানী আবু সালেহর উদ্ভাবিত ক্যান্সার ওষুধে বিস্ময়করভাবে দেশের অনেক ক্যান্সারাক্রান্ত মুমূর্ষ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বিজ্ঞানী আবু সালেহ্ বর্তমানে এপি ঔষধালয় লিঃ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত নূর মাজিদ আয়ূর্বেদিক কলেজ এন্ড হাসপাতাল বনশ্রী, ঢাকায় রিসার্চার (সাইটিষ্ট) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গবেষক আবু সালেহের সাথে কথা বলে জানা গেছে ওষুধটি নিয়ে আরো ব্যাপক পরিসরে গবেষণার জন্যে বিজ্ঞানী আবু সালেহ্ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে চিঠি প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবগণকেও চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি অবহিত করেছেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব গত ২১-১০-২০১৯ তাং এক চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে জানাতে বলেন। কিন্তু ১৭/১১/২০১৯ তারিখে এক চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক জানান ক্যন্সার প্রতিষেধকটির গবেষণার সুযোগ তাদের নেই, এ সুবিধা আছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠি দুইটি সংযুক্ত করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহা পরিচালক বরাবর চিঠি দেন আবু সালেহ্। কিন্তু ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এর কোনো জবাব দেয়নি। এরপর গবেষক আবু সালেহ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর-সাইন্স ল্যাব) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-কে গবেষণা সহায়তার জন্য চিঠি দেন। আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায় তাদের এ সুবিধা নেই। বিসিএসআইআর হতে ফোন করে জানায় চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতের জন্য। নির্ধারীত তারিখে আবু সালেহ্ উপস্থিত হলে চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে বিসিএসআইআর এর তিনজন সাইন্টিষ্টের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সভা শেষে তারা সিদ্ধান্ত জানান যে গবেষনার যাবতীয় ব্যয়-ভার গবেষক আবু সালেহকেই বহন করতে হবে। প্রতিষেধকটি কিভাবে ও কোন কোন উপাদানে তৈরি হয়েছে তা বিসিএসআইআর এর কাছে জমা দিতে হবে। গবেষণাটি শেষ হলে পেটেন্ট রাইটস এর মালিকানা থাকবে বিসিএসআইআর এর নামে। তাঁদের এ প্রস্তাবে আবু সালেহ্ সম্মতি দিতে পারেননি।
এভাবে রাষ্ট্রিয় বা বেসরকারী কোনো সংস্থার আনুকুল্য না পেয়ে আবু সালেহ তাঁর সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষেধকটি নিয়ে গবেষনা চালিয়ে যেতে থাকেন। তিনি এনএমএসি, বিসিএসআইআর, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরীগুলোতে নানাবিধ পরীক্ষা চালাতে থাকেন। এতে তিনি উৎসাহব্যাঞ্জক সফলতাও পেতে থাকেন। ইতিমধ্যে দুএকটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হওয়ার পর দেশের নানা প্রান্ত হতে ক্যান্সার আক্রান্তদের স্বজনগণ আবু সালেহ্র সাথে যোগাযোগ করে ওষুধ দেওয়ার অনুরোধ জানাতে থাকেন। কিন্তু তিনি সবাইকে ওষুধ না দিয়ে মাত্র ২০ জন রোগী বাছাই করেন। যাদের অবস্থা সর্বশেষ স্টেজে- বাঁচার আশা ছিলনা এবং প্রায় প্রতিজনই ছিলেন পেলিয়াটিভ কেয়ারের মেটাষ্টেটিস রোগী। ঐ পর্যায় থেকে ১৬ জন রোগী ক্যান্সার মুক্ত হন। ক্যান্সারগুলো হলো- স্টোমাক ক্যান্সার ৪ জন, রেকটাম ক্যান্সার ৪ জন, ব্রেষ্ট ক্যান্সার ২ জন, ইউরোনারি ব্লাডার ক্যান্সার ২ জন, মাল্টিপল মাইওলোমা ক্যান্সার ২ জন, টাংগ ক্যান্সার ১ জন এবং প্রোষ্টেট ক্যান্সার ১ জন।
আবু সালেহর ওষুধ সেবনের পর এসব রোগীদের সিটি স্ক্যান, পিইটি সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এন্ডোসকপি, কলোনস্কোপি, সিস্টোস্থকপি ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীই ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ক্যান্সার মুক্ত হয়েছেন আর বাকি ২০ শতাংশ রোগী ৭ হতে ৮ মাসে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন।
আবু সালেহ’র ওষুধ সেবনকারী রোগী এবং তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকার রোগী মিজানুর রহমানের সাথে কাথা বললে তিনি জানান, আবু সালেহ্’র ওষুধে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আগের মতোই তিনি সব ধরনের কাজ-কর্ম, ব্যবসা-বণিজ্য করছেন। এজন্য তিনি আবু সালেহ্’কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান এবং তার জন্য দোয়া করেন। লালবাগ, ঢাকার ৬৩ বছর বয়সী রোগী বিবি ফাতেমার নাতী শাকিল আহমেদ জানান তার দাদী লিভার এবং ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত। হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে বলে দিয়েছে তার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। হাসপাতালে যখন ভর্তি ছিলো তখন তার দেখা-শোনা, প্রসাব-পায়খানা, খাওয়া-দাওয়া করাতে সব সময় ২ জন মানুষ লাগতো। কিন্তু আবু সালেহ্’র ওষুধ খাওয়ার ৩ দিন পর হতেই তার দাদীর শারীরিক উন্নতি লক্ষ করা যায়। ওষুধ সেবন শুরুর ১৫ দিনের মাথায় তার দাদী কারো সহযোগিতা ছাড়াই একজন পরিপূর্ণ সুস্থ মানুষের মতোই হাঁটা-চলা করছেন, কথা বলছেন, খাওয়া-দাওয়া করছেন।
ওষুধটির কোনো রকম নেতিবাচক পার্শ^প্রতিক্রিয়া নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এনএমএসি, বিসিএসআইআর সহ বিভিন্ন সরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসী, ডিপার্টমেন্ট অব বায়োকেমিস্ট্রি, ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাকোলজী এবং ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজী এন্ড হাইজিন ল্যাবরেটরীগুলোতে নানাবিধ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধটি গ্রহণে ন্যূনতম নেতিবাচক পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই। ওষুধটি সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষক আবু সালেহ জানান, ওষুধটি ন্যাচারাল (হার্বাল, ইউনানি, আয়ূর্বেদিক) ফর্মূলারীতে গবেষণা হচ্ছে, ন্যাচারাল ফর্মূলারীতেই উল্লেখিত ফলাফল পাওয়া গেছে। আবু সালেহ্র সাথে প্রয়োজনে যোগাযোগ করার মোবাইল ফোন নাম্বার-০১৯৭৩-৯৩৭৭২৭, ০১৭০৬-৮৮০৯১০

Back to top button