যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: বাংলাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে শুক্রবার উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসলমান সম্প্রদায়। করোনায় নানা বিধিনিষেধও বৃহৎ এই উৎসবকে ততটা ম্লান করতে পারেনি। মুসুল্লিরা দুচোখের জল ফেলে মহান স্রষ্টার কাছে করোনামুক্তির জন্য দোয়া করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরে বাংলাদেশে প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা।

ঈদ আয়োজনে নানা রকম সেমাই, ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও-কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে। এ দিন বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যায়নি হাসপাতালের রোগী, বন্দি বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও।

তবে বৈশ্বিক মহামারী গত বছর দুই ঈদ উৎসবেরই রাশ টেনে ধরেছিল। পরিস্থিতি এবারও বদলায়নি। সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিহীনতায় জীবন আর জীবিকা দুই সঙ্কট নিয়েই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে।

এরমধ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় জীবন বাঁচানোকে গুরুত্ব দিয়ে আবার এসেছে লকডাউন; সেই বিধি-নিষেধের খাঁড়ার মধ্যেই এল ঈদ। গত বছরের মতো এবারও ঈদের নামাজ হবে ঈদগাহে পড়তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মসজিদের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল। যাদের মুখে মাস্ক ছিল না তাদেরকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছে। তবে সব কিছু বন্ধের পরও গাদাগাদি করে ঢাকাসহ শহরগুলো থেকে মানুষের গ্রামে ফেরা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞর

এদিকে শুক্রবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন মুয়াজ্জিন হাফেজ কারি কাজী মাসুদুর রহমান। নামাজে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে সৃষ্টিকর্তার দরবারে ফরিয়াদ জানায় হাজার হাজার হাত। মুনাজাতে ইমাম করোনাভাইরাস থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। এ সময় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় ঈদগাহ। নামাজের আগে দুর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা বায়তুল মোকাররম মসজিদে আসতে শুরু করেন। মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকেই বাইরে নামাজ পড়েন।

মসজিদের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল। যাদের মুখে মাস্ক ছিল না তাদেরকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মুসল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জামাতে অংশ নেন। তবে সামাজিক দূরত্ব মানতে অনেকের মধ্যে অনীহা দেখা গেছে।

এদিকে, নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদেরকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে আরও চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে- সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত ২৬ এপ্রিল জারি করা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনার কারণে এবারও ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করা যাবে না। মসজিদে পড়তে হবে ঈদের নামাজ। একইসঙ্গে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে বাংলাদেশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এসব বাণীতে তাঁরা শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করেছেন।

print

Leave a Reply