Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

প্রয়োজন ব্যবসা এবং বিনিয়োগ বান্ধব ব্যাংক লোন

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহঃ এসএমই লোন দেয়ার সময় ক্লায়েন্টের সবদিক খোজখবর নিয়ে এবং বিবেচনা করে লোন দেয়া হয়। তবে অনেক সময় নানাবিদ ব্যবসায়িক, পারিবারিক এবং দেশের কোন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যার কারণে ব্যাংক থেকে লোন গ্রহনকারী অনেক ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তা নিয়মিত মাসিক ইন্সটলমেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়। তবে তারা সবাই ব্যাংক লোনের টাকা লোন পরিশোধের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই পরিশোধ করেন। কিন্তু এজন্য তাকে ব্যাংকে ব্লাক লিস্টেট করা হয় এবং পরবর্তীকালে তাকে আর সেই ব্যাংক থেকে লোন দেয়া হয় না। যা ব্যবসার দিক থেকে ব্যাংকের জন্য একটি গুরুতর ভুল এবং ক্লায়েন্টের প্রতি চরম অন্যায় নীতি।

১/২ বার লোন গ্রহনকারী ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে ব্যাংকের উচিত তাদের পরিচিত পুরানো লোন গ্রহনকারী গ্রাহকের পাশে থাকা। ক্লায়েন্ট তার পূর্বের ব্যাংক লোনের কয়েকটি কিস্তির টাকা কেন সঠিক সময়ে নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে পারেনি? সেজন্য ক্লায়েন্টকে ব্যাংক থেকে শোকজ নোটিশ করে তাকে লিখিত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া। এরপর ব্যাংক অথরেটি ক্লায়েন্টের সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাকে পানিসমেন্ট হিসাবে পরবর্তীকালে লোন দেয়ার সময় তাকে পূর্বের লোনের পরিমানের চেয়ে কমিয়ে একধাপ ছোট লোন দিবে। যাতে ক্লায়েন্ট সহজে পূর্বের চেয়ে ছোট কিস্তি পরিশোধ করতে পারে এবং ক্লায়েন্ট তার ভুল বুঝতে বা সংশোধন করতে পারে।

সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে এসএমই ব্যাংক লোন নিতে গেলে ক্লায়েন্টকে প্রতি মাস-বছরের ব্যবসায়িক হিসাবে কোটি টাকার ট্রানজিকশান থাকতে এবং দেখাতে হয়। যা আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের পক্ষে সম্ভব না। ব্যাংকগুলোর এই ধরনের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ প্রতিবন্ধক নীতির কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তারা ব্যাংক থেকে সহজে এসএমই লোন নিতে পারেন না। অথচ লোন দেয়ার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চারিত্রিক, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সুনাম; নূন্যতম ১০ বছরের পুরানো রানিং মোবাইল নাম্বার, ১০ বছরের পুরানো রানিং বিজনেস বা পার্সোনাল ব্যাংক একাউন্ট, ১০ বছরের পুরানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, কোন ব্যাংকের পুরানো লোন গ্রাহক প্রভৃতি ব্যাপারই অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

অপরদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের জন্য
কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলো থেকে এসএমই লোন নেয়া অত্যন্ত সহজ। কিন্তু কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদের লাভে বিনিয়োগ হিসাবে বাজারে পুজি খাটায় এবং তারা তা পরিশোধের জন্য ক্লায়েন্টকে সর্বোচ্চ ১২ বা ১৮ মাস সময় দেয়। এজন্য খুব সহজ শর্তে এবং দ্রুত ভিত্তিতে এসএমই লোন পাবার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তারা নিরুপায় হয়ে
কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলো থেকে উচ্চ সুদের স্বল্প মেয়াদী এসএমই লোন নিয়ে থাকে। কিন্তু কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলোর এই ধরনের উচ্চ সুদের স্বল্প মেয়াদী এসএমই লোন দিয়ে শেষপর্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তারা ব্যবসা, বিনিয়োগে তেমন লাভ, উন্নতি করতে পারে না এবং লোনের জাল থেকেও সহজে বের, মুক্ত হতে পারে না।

আর ভাল-মন্দ মিলিয়েই প্রতিটি মানুষ এবং সমাজ। বাস্তবতা হচ্ছে অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তা ভাল, সৎ, পরিশ্রমী, মেধাবী। আর কিছু নগণ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তা চরিত্রগতভাবে এবং কাজকারবারে খারাপ, বাটপার, বদমাইশ হয়ে থাকে। কিন্তু এই হাতেগণা ২/৩ জন খারাপ, বাটপার, বদমাইশ বা ব্যর্থ ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তার জন্য কোন নির্দিষ্ট মার্কেটকে ব্লাক লিস্টেট করা এবং গণহারে মার্কেটের সব ব্যবসায়ীকে সন্দেহ করা, দায়ী করা, অক্ষম ভাবা সঠিক সিদ্ধান্ত এবং ব্যবসায়ী সুলভ আচরণ না। এজন্য লোন দেবার আগে ক্লায়েন্টের সব ডকুমেন্ট ছাড়াও এলাকা, মার্কেট এবং নিজ পরিবারে ক্লায়েন্টের পরিচিতি, চরিত্রগত বা ব্যবসায়ীক সুনামের মত ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তাহলে ব্যাংক অথরিটি প্রতিটি ক্লায়েন্টের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ©asifuljinnah@gmail.com

print

Leave a Reply