প্রিন্ট প্রিন্ট

চিত্র নায়িকা মুনমুনের স্বপ্ন ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক হবার !

আহমেদ সাব্বির রোমিও, টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না , চিত্র নায়িকা মুনমুন প্রথমে হতে চেয়েছিলেন চলচ্চিত্রে চলচ্চিত্র পরিচালক ! ছোট বেলা থেকেই এই স্বপ্নটাকে মনে মনে পুষে রেখেছিলেন । সুযোগ খুঁজছিলেন কার শরণাপন্ন হোলে তার এই স্বপ্নটার বাস্তবায়ন হবে ! অনেকটা কাকতালীয় ভাবে দেখা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক আবু নুর মোহাম্মাদ এহতেশামুল হক এর সাথে । যিনি এহতেশাম, নামেই অধিক পরিচিত। সেটা ১৯৯৭ সালে কথা । মুনমুন তখন এহতেসাম দাদুর সাথে দেখা করে তার মনের বাসনার কথা বলেন ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ( ডিআরইউ) এর বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গ্রিনরুমে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে নায়িকা মুনমুন ফিরে যান তার অতীত জীবনে। অনেকটা নস্টালজিক হয়ে পরেন এই নায়িকা ! জানতে চাইলাম, পরিচালক হবার পোকাটা কি এখনও মাথাতে আছে ? তখন মুনমুন জানালেন, ” না ভাই পরিচালক না তবে ছবি প্রযোজনা করার ইচ্ছা আছে আগামীতে ” । মুনমুন আবার ফিরে গেলান তার সৃতিচারণে । তিনি বলতে শুরু করলেন ,

” বেশ কয়েক মাস আমি এহতেশাম দাদুর সহকারী হিসেবে কাজও করেছিলেন । কিন্তু এহতেশাম দাদু আমার অভিনয়ে দক্ষতা দেখে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দেন। এহতেসাম দাদু পরিচালিত ” মৌমাছি ” চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আমার ।”
কিন্তু চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে লাভ করতে পারেনা। এতে মুনমুনকে ক্যারিয়ারের শুরুতেই থেমে যেতে হয়। এরপর তাকে কোন পরিচালক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তেমন একটা প্রস্তাব দিতেন না । পরবর্তীতে নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুলের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে মুনমুনের। মাসুম বাবুলের মাধ্যমে মুনমুন আবার বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টূ পরিচালিত ” শক্তির লড়াই ” চলচ্চিত্রে মুনমুন অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন। মালেক আফসারী পরিচালিত ” মৃত্যুর মুখে “তার একটি দারুন ব্যাবসা সফল চলচ্চিত্র। এছাড়াও, রানী কেনো ডাকাত, লংকাকাণ্ড, জানের জান, শত্রু সাবধান, জল্লাদ, রক্তের অধিকার প্রমুখ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেন ।এভাবেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে ধিরে ধিরে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান মুনমুন। অনেক প্রতিকূলতা
পার করে এসে অবশেষে এক পর্যায়ে শাকিব খানের প্রথম ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র “বিষে ভরা নাগীন” দারুন ব্যাবসা সফল হয় ।নায়িকা মুনমুন-শাকিব খান । এরপর এই জুটিকে প্রায় ১৪টি চলচ্চিত্রে দেখা যায় ।
মুনমুন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অধিকাংশ নায়কের সাথে অভিনয় করেছেন।এক পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে উঠেন তিনি । তিনি প্রায় ৮৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০৩ সালের পর চলচ্চিত্রের মাঝে অশ্লীলতা বা নগ্নতা জেঁকে বসে আর ঠিক তখন মুনমুন চলচ্চিত্র শিল্প থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। ২০১৭ সালে তিনি আবার বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে ফিরে আসেন। মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত “রাগী” চলচ্চিত্রে একটি খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন।”রাগী” ছাড়াও তিনি ৩-৪ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নতুন করে। এর আগে ২০০৭ সালে আবার চলচ্চিত্রে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় মাত্র ২টি চলচ্চিত্রে কাজ করে আবার দূরে চলে যান।
মুনমুনের জন্ম ইরাকে। তবে তার পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তার বাবা ও মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার পর তাদের অর্থকষ্টে পড়তে হয়েছিলো।
যে কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর আর পড়াশোনা করতে পারেন নি। মুনমুন অভিনীত চলচ্চিত্র গুলোর মধ্যে দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো “বিষে ভরা নাগিন”, “দুই নাগিন” ,” নিষিদ্ধ নারী” ,”মৃত্যুর মুখে” রানী কেনো ডাকাত”, “লংকাকাণ্ড” “জানের জান “,”শত্রু সাবধান” ,”জল্লাদ” , ‘রক্তের অধিকার’। বড় পর্দায় কাজ করতে এসে একটা সময় এই মুনমুন কেও হতে হয়েছিলো চরম সমালোচনার পাত্রও বটে ! কিছু কিছু সাংবাদিক বিশেষ মহলের চাপে মুনমুন কে বানিয়ে ছাড়লেন একজন অন্যতম বিতর্কিত নায়িকা ! সময়টা ২০০০ সালের কথা । সে সময় চলচ্চিত্রে নগ্নতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিলো।”কাট পিস ” নামক ঘাতক তখন বাংলা চলচ্চিত্রে মহামারী আকার ধারন করে ফেলেছিল । সে এক ভয়াবহ অবস্থা ! সে সময়ে অনেকেই লিখে দিলেন , “মুনমুন অভিনীত বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নগ্নতা দেখা যায় ” । কিন্তু মুনমুন কে কোন চলচ্চিত্রে “কাট পিস ” ধারায় নগ্ন ভাবে অভিনয় বা নৃত্য করতে দেখা যায় নাই । তখন মুনমুন ছিলেন প্রথম সারির নায়িকাদের কাতারে । তাকে হেয় বা সমালোচিত করতে একটি মহল তার নামের পাশে অশ্লীল শব্দের ব্যাবহার করা শুরু করে। তার নামের সাথে ঐ মহলের সংশ্লিষ্টরা “বি” গ্রেডের কিছু নায়িকার নাম জুড়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করেন নাই । এসব দেখ অনেকটা অভিমান নিয়েই চলচ্চিত্র ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি । তারপর নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন গার্মেন্টস ব্যাবসার সাথে। ঢাকার উত্তরায় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান রয়েছে মুনমুনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ

চিত্র নায়িকা মুনমুনের স্বপ্ন ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক হবার !

কড়া নিরাপত্তায় নগরীতে থার্টিফাস্ট নাইট !