মেট্রোরেলের কোচ-ট্র্যাক সংগ্রহের উদ্যোগ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: খারাপ সংবাদের মাঝে নগরবাসীর জন্য সুখব। ঢাকা মেট্টোরেল নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের রেল কোচ এবং রেল ট্র্যাক সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মোট ২৪ সেট ট্রের জন্য (প্রতি সেটে ৬টি কোচ) অর্থাৎ মোট ১৪৪টি রেল কোচ সংগ্রহ করা হবে । কোচ সংগ্রহের চুক্তি অনুযায়ী ২৪ সেট ট্রেনের মধ্যে আগামী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ সেট ট্রেন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ১৯ সেট ট্রেন রয়েছে। এছাড়াও রোলিং স্টক, ট্রেন সিমুলেটর, ডিপোর যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সংশিষ্টরা দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও চুড়ান্ত করা হয়েছে। সংশিষ্টরা বলেছেন, মেট্রোরেল চালু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে যাত্রী পরিবহন করা যাবে ৬০ হাজার। দুইটি ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হবে ৫ মিনিট। রাজধানীর যানজট থেকে রক্ষা পাবে এ মেট্টোরেলের যাত্রীরা।
গত বছর ৬ আগস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে মেট্টোরেল নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোটিয়াম এবং মেট্রোরেল বাস্তবায়ন সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল এর মধ্যে এ চুক্তি সই হয়েছে বলে সেতু পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়।
চুক্তি অনুযায়ী কাওয়াসাকি-মিতসুবিনিশি কনসোর্টিয়াম ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ সেট ট্রেন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ১৯ সেট ট্রেন এবং ডিপো ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করবে। এসব ইকুইপমেন্ট কেনার জন্য ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৬ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। রেল কোচ ও রেল ট্র্যাক ছাড়াও রোলিং স্টক, ট্রেন সিমুলেটর, ডিপোর যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা হবে বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, মেট্রোরেলের জন্য যে কোচগুলো আনা হবে, তা হবে আধুনিক ও উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কোচের আসনগুলো লম্বালম্বিভাবে সাজানো থাকবে এবং প্রতি ট্রেনে ২টি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া থাকবে স্মার্টকাড টিকিটিং পদ্ধতি। সবমিলিয়ে যাত্রীরা সহজে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মেট্রোরেলের কোচগুলো হবে আধুনিক ও উচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন মরিচাহীন ইস্পাত দ্বারা নির্মিত এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কোচের আসনগুলো লম্বালম্বিভাবে সাজানো থাকবে এবং প্রতি ট্রেনে দু’টি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। এসময় মন্ত্রী এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপান সরকার এবং জনগণকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের রুট এবং স্টেশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডিপো নির্মাণ এবং ডিপো এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রায় বাইশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পে জাইকা’র প্রকল্প সহায়তা প্রায় ষোল হাজার ছয়’শ কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, আটটি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল প্যাকেজের দরপত্র আহবানের কাজ শেষ হয়েছে। দু’টি প্যাকেজের আওতায় প্রায় চার হাজার দুই’শ ত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে বারো কিলোমিটার উড়ালপথ এবং নয়টি স্টেশন নির্মিত হতে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে বারো কিলোমিটার উড়ালপথ এবং উত্তরা-উত্তর, উত্তরা-সেন্টার, উত্তরা-দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
জানা গেছে, মেট্টোরেলের রুট ধরা হয়েছে, উত্তরা তৃতীয় পর্ব-পল্লবীী-রোকেয়া সরণীর পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁও-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড-বাংলাদেশ ব্যাংক।
মেট্রোরেলের স্টেশন সংখ্যা থাকবে ১৬টি। এগুলো হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হলেও বিশেষ উদ্যোগে ২০১৯ সালে উত্তরা ৩য় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এবং ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্টোরেল চালু করা হবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে বর্তমান সরকার মেট্টোরেল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অগ্রাধিকার প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটি ৫টি রূটের মাধ্যমে নগরবাসীর সেবা প্রদান করবে।
ওবায়দুল কাদের জানান, জাপানের সঙ্গে ক্রয় চুক্তির আওতায় মেট্টোরেলের জন্য মোট ২৪ সেট ট্রেন (প্রতি সেটে ৬টি কোচ অর্থাৎ ১৪৪টি রেল কোচ) সংগ্রহ করা হবে।
তিনি জানান, মেট্টোরেল রুটের কাজটি আগামী ২০১৯ সালে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে আগারগাঁও পর্যন্ত আংশিক চালু হবে এবং ২০২০ সালে উত্তর ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত চালু হবে।

print

Leave a Reply