Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

চিকিৎসা সঙ্কটে খালেদা জিয়া

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: গত কয়েক দিন ধরে ফের আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি। ‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। পা ফুলে গেছে।চিকিৎসকরা বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না। আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা আমাকে সাজা দিয়ে দেন।’ বিশেষ করে গত মঙ্গলবার আদালতে খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্য করেছিলেন। তখন থেকেই আবারো এই চিকিৎসা বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিএনপি’র দাবি, কোনো বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানো হোক। আর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চায়। কিন্তু খালেদা জিয়া তাতে রাজি নন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টি ঝুলে আছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, জেল কোড অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যে সমস্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বেগম খালেদা জিয়াকে গতবারও দেখেছেন, যে বোর্ড গঠন হয়েছিল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য, সেভাবে আবারও তাকে আমাদের সরকারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সুপারিশ অনুযায়ী আমরা আমাদের যে নীতিমালা সে নীতিমালা অনুযায়ী সবোচ্র্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদি প্রয়োজন হয়।
এদিকে, কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদুল হাসান শুভ। তিনি বলেন যে, খালেদা জিয়ার কিছু সমস্যা আগে থেকেই আছে। তিনি বলেন, উনার হাটু রিপ্লেস করা। এখানে মাঝে মধ্যেই ব্যাথা বাড়ে, আবার কমে। আমরা ঢাকা মেডিকেল থেকে ফিজিও এনে প্রতিদিন তাকে থেরাপি দিচ্ছি। ঢাকার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম প্রায়ই উনাকে দেখছেন। তারা যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন সেভাবেই চিকিৎসা হচ্ছে।
হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা তো উনাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিতে চাচ্ছি। কিন্তু উনি তো যেতে চান না। উনি বেসরকারি হাসপাতালে যেতে চান। কিন্তু কারা বিধি অনুযায়ী সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমাদের এখানে উনার যেভাবে ভালো চিকিৎসা হওয়া সম্ভব আমরা তার সবাই করছি। এর বাইরে কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।
এদিকে গতকাল রোববার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে চলে যাওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন কিছুক্ষণ আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তাদের স্থায়ী কমিটি পর ৭ জন সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। তারা তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যে অন্তরীণ আছেন, তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছু অনুরোধ লিখিত আকারে আমাদের কাছে করে গিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং তার অসুস্থততার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর আগেও যেরকম অনুরোধ করেছিলেন অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এবার তা লিখিত দিয়েছেন। লিখিত আবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের সচিব (সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ) এবং কারা মহাপরিদর্শককে বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছি।’
তিনি বলেন, আপনারা জানেন তিনি কারা অন্তরীণ হওয়ার পরে তিনি আর্থাইটিস এবং অন্যান্য রোগে ভুগছেন। তাদের অনুরোধে আমরা তার সঙ্গে থাকার মত একজন মহিলাকে অ্যালাউ করেছি, তাকে সেবা করার জন্য। তিনিও কিন্তু কারাগারে আছেন। তারপরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন আমরা কিন্তু সবই করে যাচ্ছি। কারাগারে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট একদিন পর একদিন গিয়ে তাকে থেরাপি দিয়ে যাচ্ছেন।
কামাল বলেন, এছাড়া প্রতি সপ্তাহে আমাদের ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করছেন। শুধু তাই নয়, একজন ডাক্তার একজন ফার্মাসিস্ট প্রতিদিনই তাকে চেক করছেন। আমাদের আইজি (প্রিজন) এটা জানিয়েছেন। তাদেরও জানিয়ে দিয়েছেন। জেল কোড অনুযায়ী সবোচ্র্চ যে সুযোগ সুবিধা দেয়ার সেটা আমরা দিচ্ছি। যাতে তার কোনোরকম অসুবিধা না হয়। তারপরেও তারা যে কথাটি বলেছেন, তারা মনে করছেন বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে, সে জন্য তাকে ইউনাইটেড হাসপাতাল নেয়ার কথা বলছেন। এবার নতুন করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়ার কথা বলেছেন। আমরা সেটিই তাদের জানিয়ে দিয়েছি, আমরা মেডিকেল বোর্ড আবার গঠন করবো। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সবোচ্র্চ ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজন অনুযায়ী।
বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালেই নিতে হবে। এটিই হলো আমাদের জেলা কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় বড় হাসপাতালগুলো কিন্তু সরকারি হাসপাতাল। আমি কিন্তু আগেও বলেছি বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল ছাড়াও যেগুলো সরকারি হাসপাতাল সেখানে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাব বলেছিলাম। তখন তারা তাতেও একমত হননি।
তিনি বলেন, ডাক্তাররা যদি মনে করে আমাদের পিজি কিংবা সরকারি হাসপাতালে এসমস্ত সুযোগ সুবিধা নেই, তাহলেই বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার প্রশ্ন আসে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কিন্তু আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আমরা নিয়মিত তার স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করছি। যখন প্রয়োজন হচ্ছে তখন বিভিন্ন ধরনের টেস্টও হচ্ছে। এখানে আমাদের কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি নেই। সবসময়ই তার স্বাস্থ্যের প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরে রেখেছেন। তারপরেও বিএনপির নেতারা যা বলেছেন, সেরকম পরিস্থিতি হয়েছে কি না তা ডাক্তাররা পরীক্ষা করবেন। তবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবনতি হচ্ছে এমন কোনো রিপোর্ট আমার কাছে নেই। এখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যেটা বলছেন সেটাই করা হবে।
এর আগে গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে দেখা করতে যান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সচিবালয়ে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৌনে ১ ঘণ্টা বৈঠক করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সূত্র: দৈনিক জনতা।

print

Leave a Reply