Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

আপন ম‌হিমায় আলো‌কিত প‌থে আপন হিজড়া সংঘ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা ও বাউ‌নিয়া এলাকার স্বনামধন্য হিজড়া সম্প্রদায় হ‌চ্ছে আপন হিজড়া সংঘ। তারা কর্মমূ‌খি ও কর্মজী‌বি আত্মকর্মসংস্থা‌নের প‌থে আর্তমানবতার সেবায় এগি‌য়ে আসার জন্য সকল মানু‌ষের ভালবাসা দোয়া ও সমা‌জের বিত্তবান‌দের সা‌র্বিক সহ‌যে‌াগিতাসহ সুদৃ‌ষ্টি কামনা ক‌রেন। তা‌দের নিজস্ব কারখানায় অর্ডার অনুযায়ী স্কুল ক‌লে‌জের ড্রেসসহ যে‌কোন উন্নত মানসম্পন্ন পোশাক তৈ‌রি‌তে তারা নি‌য়ো‌জিত কর্মজী‌বি হিজড়াগণ নি‌বে‌দিতপ্রাণ। তাই স্বপ্ন বাস্তবতা ও আত্ম‌নির্ভরশীলতার প‌থে এগি‌য়ে আপন হিজড়া সংঘ। ‌এখা‌নে হিজড়া‌দের তৈ‌রি পাঞ্জা‌বি, স্কুলক‌লে‌জের ড্রেস তৈ‌রি ও সরবরাহ চা‌হিদা দিন‌দিন বাড়‌ছে। ‌হিজড়া হি‌সে‌বে সমা‌জে অব‌হে‌লিত বা অ‌ভিশপ্ত ন‌া থে‌কে নি‌জে‌দের স্বার্থক কর্মজী‌বি মানুষ হি‌সে‌বে সামা‌জিক মর্যাদা অর্জ‌নে যারা আত্মকর্মসংস্থা‌নের প‌থে এগি‌য়ে তা‌দের ম‌ধ্যে উত্তরার আপন হিজড়া সংঘ আপন ম‌হিমায় সমাজের বিত্তবান‌দের সহ‌যো‌গিতায় স্বাবলম্বী হ‌তে চ‌লে‌ছে। হিজড়া বল‌তে দৃশ্যত: শারীরিক গঠন খানিকটা পুরুষের মত দেখালেও, নারী বা মেয়ের বেশেই থাকতেই তা‌দের প্রথম পছন্দ। তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন নারীর সাজে সাজতে। হাজারো দুঃখ-কষ্ট যাদের জীবন সঙ্গী, লিঙ্গ বৈষম্যে সমাজ তাদের ‘হিজড়া’ বলে ডাকে। এক সময় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের শিখণ্ডী বা বৃহন্নলা বলে ডাকতো প্রাচীন রাজা-বাদশারা। সম্প্রতি অপরাধী ধরাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসে হিজড়ারা। কেন হিজড়াদের সমাজের ভাল কাজে লাগানো যাবে না, এমন অনেক প্রশ্ন জাগে সচেতন মহলে। সেই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে আসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সহযোগিতার হাত বাড়ায় পুলিশবাহিনী। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নেয়া হয় উৎপাদনমুখি উদ্যোগ। সেই উদ্যোগে যোগ দেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। রাজধানীর তুরাগের বাউনিয়ায় হিজড়া গুরু আপনের আশ্রয়ে থাকা প্রায় ২৫ জনকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় মিনি গার্মেন্টস। সেখানে শিখণ্ডীরা নিজেদের গড়ে তুলছেন সুদক্ষ ও সুনিপুণ কারিগর হিসেবে। তাদের হাতে তৈরি হচ্ছে বাহারি নিপুন পাঞ্জাবি। যা ক্রয় করছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চবিত্ত্যরাও। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিজড়ারাও বেশ উদ্যেমী। বাজারের চেয়ে অনেক বেশি সুলভ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে শিখণ্ডীদের তৈরি এসব পাঞ্জাবি। হিজড়া গুরু আপন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ শিখছি। এর আগে বৈশাখী, রোজার ঈদ, কুরবানির ঈদে বেশ কিছু পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি আমরা। তেমন কোনো অভিযোগও আসেনি কাজের মান নিয়ে। তাই হিজড়াদের তৈরি পাঞ্জাবি কিনে, তাদের সহযোগীতার আহ্বান তার। তিনি আরো জানান, উত্তরায় রাজউক কমার্শিয়াল মার্কেটে উত্তরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি শো-রুম আছে। তিনি বলেন, যা হচ্ছে তা আপনাদের অনেকের সহযোগিতা ও এগিয়ে আসার কারণে। সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব আমাদের দু’জন দেবতা- ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা স্যারের কাছে। তারা মহতী উদ্যোগ না নিলে, হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখা হত না শিখণ্ডীদের। মিনি গার্মেন্টস দায়িত্বে থাকা মাষ্টার রানা জানান, তারা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হলেও মেধা ও শক্তি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। খুব সহজে তারা কাজ শিখে নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বড় বড় শো-রুমে যে পাঞ্জাবি ৩-৪ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, সেই পাঞ্জাবি এখানে অর্ধেক মূল্যে পাওয়া যাবে। আমরা সবাই যদি তাদের পাশে এসে দাঁড়াই, আশা করি ধীরে ধীরে সমাজের সব হিজড়া বা শিখণ্ডীরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। কথা হয় রোমিও হিজড়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি গুরু মাকে (আপন) অনেক সম্মান করি। তার কাছে ওয়াদা করেছি। যত কষ্ট হোক তার হাত ধরেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছি। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, হিজড়াদের অবহেলিত জীবনমান দেখে কিছু করার ইচ্ছে জাগে। ভাবনায় আসে সাধারণ মানুষ এদের দ্বারা অত্যচারিত হয়, তা থেকে বের করে আনতে হবে শিখণ্ডীদের। আর সে পরিকল্পনা থেকে মিনি গার্মেন্টসসহ আরো কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। সফলও হয়েছি অনেকটা। এখন তারা নিজেরা পাঞ্জাবিসহ যে‌কোন পোশাক তৈরি করছে। কেউ বিউটি পার্লার করছে। সমাজের বিত্ত্যবানদের উদ্দেশ্যে ডিআইজি হাবিব বলনে, আসুন, আমরা সবাই তাদের পাশে দাঁড়াই। দেখবেন একদিন দেশের ভালো কাজে হিজড়ারাও ভূমিকা রাখতে পারবে। এদিকে উত্তরা থেকে বিদায়ী পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বলেন, আমি উত্তরা জোনে থাকাকালীন হিজড়াদের সঙ্গে পরিবারের মত মিলেমিশে খোঁজখবর নিতাম। এখন অনেক দূরে, তারপরও একটু সময় পেলেই রাস্তা থেকে উঠে আসার গল্প শুনতে পরিবার নিয়ে ছুটে যাই তাদের কাছে। তিনি বলেন, গুণে মানে সব দিক থেকে উন্নতমানের কাপড় দিয়েই তৈরি হচ্ছে শিখণ্ডীদের পাঞ্জাবি। আমি নিজে এদের তৈরি পোশাক কিনে ব্যবহার করছি। উদ্দেশ্য একটাই শিখণ্ডীদের সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো। উত্তরণ ফাউন্ডেশনের পাঞ্জাবি কিনতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৪৭৩৬১২৪১ নম্বরে। বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি সহজলভ্য সর্ব‌নিম্ন ৮০০ থেকে শুরু করে ২৫৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বৃহত্তর উত্তরা তথা রাজধানীর বি‌ভিন্ন মা‌র্কে‌টে আপন হিজড়া সং‌ঘের পাঞ্জা‌বির চা‌হিদা বাড়‌ছে। স্কুল ক‌লেজ থে‌কে তা‌দের ড্রেস বানা‌নোর কাজ দি‌চ্ছে আগ্র‌হের সা‌থে পাশাপা‌শি বাউ‌নিয়া বটতলা সংলগ্ন ছয়তালার পা‌শে আপন হিজড়া সং‌ঘের শোরুম ও কারখানা থে‌কেও নিয়‌মিত বেচা‌বি‌ক্রি, অর্ডার গ্রহণ ও সরবরাহ চল‌ছে। প‌রি‌শে‌ষে বলা যায়, হিজড়া‌দের অনুকরণ, স্মর‌ণিয় ও বরণীয় প‌থে আপন হিজড়া সংঘ।

print

Leave a Reply