প্রিন্ট প্রিন্ট

কোটা বহালের দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও পোষ্যদের সংগঠনগুলোর জোট ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’।
একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ’। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ফলে শাহবাগসহ আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে তাদের টানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সোমবারের মধ্যে কোটা পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপন জারির আল্টিমেটাম দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের এই প্ল্যাটফর্ম।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’। এসময় মঞ্চের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। এসময় তিনি মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের পদত্যাগ এবং মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে কোটা পরিপত্র বাতিলের দাবি জানান।এদিকে একই জায়গায় পাঁচ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটার দাবিতে বিকেল ৪টার দিকে রাস্তা অবরোধ করে ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ’। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সদস্যরা ১১দফা দাবি তুলে ধরেন।
তাদের দাবিগুলো হলো- প্রতিবন্ধীদের পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা, প্রিলিমিনারি থেকে প্রতিবন্ধী কোটা রাখা, সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণ প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি রাখা, প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন, প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট করে বৃদ্ধি করা, তীব্র মাত্রার প্রতিবন্ধীদের সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, সকল চাকরিতে শ্রুতি লেখকের নীতিমালা প্রণায়ন করা, প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শিথিল করা, কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশে নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী অধিদপ্তর করা।গত বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তায় নামেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।ওই রাতেই শাহবাগ চত্বরে অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মুক্তিযোদ্ধা স্বজনদের বিভিন্ন সংগঠন। বৃহস্পতিবারও তাদের কর্মসূচি বহাল ছিল। ওই দিন কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি করে সরকার।পরদিন শুক্রবার মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালরে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য শনিবার অবস্থান কর্মসূচি পিছিয়ে বিকেলে শাহবাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টার পর আবার শাহবাগ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ