পাঞ্জশিরে সংঘাত বন্ধে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এনআরএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাঞ্জশিরে সংঘাত বন্ধে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির বিদ্রোহী জোট এনআরএফএ (ন্যাশনাল রেসিসট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান) নেতা আহমাদ মাসুদ। রোববার এক ফেসবুক পোস্টে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববারের ফেসবুক পোস্টে মাসুদ বলেছেন, ‘পাঞ্জশিরে সংঘাত বন্ধে এনআরএফ নীতিগতভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ও আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
‘আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এনআরএফ সংঘাত বন্ধে ইচ্ছুক, তবে শর্ত হলো- তালেবান বাহিনীকেও পাঞ্জশির ও আন্দারাবে হামলা ও সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’তালেবান বাহিনী পাঞ্জশিরে হামলা ও আগ্রাসন বন্ধ করলেই আফগানিস্তানের উলেমা কাউন্সিল ও ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন এনআরএফ নেতা।তালেবান বাহিনীর তরফ থেকে এখনও এই প্রস্তাবের কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির ধর্মীয় নেতারা পাঞ্জশির ইস্যুতে একটি মীমাংসায় পৌঁছাতে তালেবান বাহিনীকে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রোববার এনআরএফের প্রধান মুখপাত্র ফাহিম দাশতি নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত জোটের এক নেতা। পাঞ্জশিরের হালনাগাদ অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান ভরসা ছিলেন ফাহিম।তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধীর প্রধান রাজনৈতিক জোট নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের সাবেক নেতা আহমদ শাহ মাসুদের মাধ্যমে। ফাহিম ছিলেন আহমদ শাহ মাসুদের অন্যতম সহচর।২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গুপ্তহত্যার শিকার হন আহমদ শাহ মাসুদ। তার ছেলে আহমাদ মাসুদ বর্তমানে এনআরএফের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আফগানিস্তানের ৩৪ টি প্রদেশের মধ্যে ৩৩ টির দখল নেওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় তালেবান বাহিনী। একমাত্র যে প্রদেশটি তালেবান দখলের বাইরে ছিল- তার নাম পাঞ্জশির।আফগানিস্তানের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকার ক্ষুদ্র এই পার্বত্য প্রদেশটির দখল নিতে গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাঞ্জশিরে সামরিক অভিযান শুরু করে তালেবান বাহিনী।
অভিযান শুরুর আগেই তালেবান বাহিনীকে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছিল এনআরএফ, কয়েকবার তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনো বৈঠক হয়নি। তালেবান এবং এনআরএফ অবশ্য এই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে।
পাঞ্জশির বরাবরই তার স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য বিখ্যাত। আশির দশকে আফগানিস্তানে যখন সোভিয়েত আগ্রাসন শুরু হয়, সেসময় যেমন পাঞ্জশিরকে দখলে আনা যায়নি, তেমনি ১৯৯৬ সালে যখন তালেবান প্রথম দফায় আফগানিস্তানে সরকার গঠন করল- তখনও অপরাজিত ছিল পাঞ্জশির।এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় প্রদেশটির সাবেক নেতা আহমদ শাহ মাসুদের সাহসী ও কুশলী নেতৃত্বকে। নিজ নেতৃত্বগুণের জন্য ‍যিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ নামে।তবে পাঞ্জশির অপরাজিত থাকার অপর একটি কারণ ছিল প্রদেশটির উত্তরদিকের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদপত্র বিনিময় হতো।গত মাসে আফগানিস্তান দখলে তালেবান বাহিনীর অভিযান যখন ‍চুড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, তখনে সেই সড়ক নেটওয়ার্কটি বন্ধ করে দেয় তারা।

সূত্র : রয়টার্স।

print

Leave a Reply

সর্বশেষ