ডেল্টার থেকেও মারাত্মক ল্যামডা স্ট্রেইন


টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা: বিশ্বজুড়ে এবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়ংকর করোনার ‘ল্যামডা স্ট্রেইন’। কোভিড-২৯ এর ডেল্টা প্রজাতির থেকেও আরো ভয়ঙ্কর ল্যামডা স্ট্রেইন। আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টার পর এবার প্রকাশ পেল ল্যামডা স্ট্রেইন। যেখানে করোনার ডেল্টা স্ট্রেইনের মোকাবিলা করতেই নাজেহাল গোটা বিশ্ব। এবার ল্যামডা স্ট্রেইন নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন এই ভাইরাসটি। ভাইরাসের ল্যামডা স্ট্রেইন ৪ সপ্তাহে তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে। বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ডেল্টা স্ট্রেইনের ধাক্কা সামলে কীভাবে ল্যামডা স্ট্রেইনের মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েই চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যামডা স্ট্রেইন নামক করোনাভাইরাসের ধরনটি ভারতে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও বেশি ভয়ংকর। গত চার সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০টি দেশে এই স্ট্রেইন শনাক্ত হওয়ায় এটি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ব্রিটেনেও ছড়িয়েছে এই স্ট্রেন। সেখানে ৬ জনের নমুনায় এই স্ট্রেন মিলেছে। এই স্ট্রেনের মোকাবিলা কীভাবে করা হবে, তা নিয়েই চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন।
তবে ল্যামডা স্ট্রেইনের উৎপত্তি হয়েছে আমেরিকার দেশ পেরুতে। এটিই করোনায় মারা যাওয়া সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের দেশ। এর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। তারপর থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে এই ভ্যারিয়েন্টের আধিক্য বেশি। সেখানে করোনায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।


গবেষকরা এই স্ট্রেইনকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও বেশি সংক্রামক বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট বিজ্ঞানীরা সি.৩৭ নামে শনাক্ত করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই ভ্যারিয়েন্টকে ১৪ই জুন ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট বা ভিওআই হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর তথ্য অনুযায়ী, ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয় এপ্রিল মাসে। অস্ট্রেলিয়ার সাউথ ওয়েলসে হোটেল কোয়ারানটাইনে থাকা এক বিদেশি পর্যটকের দেহে নতুন একটি ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গত মাসে হু নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের নাম দেল ল্যামডা। ল্যামডা ভ্যারিয়েন্টের মিউটেশনকে বলা হয়েছে খ৪৫২ছ, যার সঙ্গে মিল রয়েছে ডেলটা ও এপসিলন ভ্যারিয়েন্টের খ৪৫২জ মিউটেশনের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসাবে ইতিমধ্যে চারটি ভ্যারিয়েন্টকে চিহ্নিত করেছে-আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা। পাশাপাশি তারা আরও সাতটি স্ট্রেইনকে তারা চিহ্নিত করেছে ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট বলে। এই সাতটি ভ্যারিয়েন্ট হল- এপসিলন, জেটা, এটা, থিটা লোটা, কাপ্পা এবং ল্যামডা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা, নয়া এই স্ট্রেন বেশ সংক্রামক এবং অ্যান্টিবডিকে দুর্বল করে দিতে পারে এই ভ্যারিয়েন্ট। তবে আশঙ্কার মাঝেই এই নয়া স্ট্রেন নিয়ে আতঙ্কিত নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।


অপরদিকে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি বায়োলজির ব্যাকটোলাক ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাকুওন ল্যাবস ইনক, এনওয়াই, ইউএসএ ওয়াইন্ডার ল্যাবস ওয়াইন্ডার ল্যাবসের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছে ডাঃ শেরাজুলি শেলি। ডাঃ শেরাজুলি শেলি টাইমস আই বেঙ্গলী জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের টিকা না নেওয়া মানুষেরা শুধু যে নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছেন তা নয়, করোনায় আক্রান্ত হলে তারা সবার জন্যই ঝুঁকি হয়ে যান। কারণ করোনাভাইরাস ভ্যারিয়েন্টের জন্ম হয় শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরেই।


ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের সংক্রামক রোগ শাখার অধ্যাপক উইলিয়াম শ্যাফনার বলেন, টিকা না নেওয়া মানুষেরা ভ্যারিয়েন্ট কারখানা। টিকা না নেওয়া যত বেশি মানুষ থাকবেন ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সুযোগ তত বাড়বে। তিনি আরো বলেন, যখন বংশবৃদ্ধি ঘটে তখন ধরনও পাল্টায়। এই প্রক্রিয়ায় এমন ভ্যারিয়েন্ট চলে আসতে পারে যা এখনকার সবগুলোর চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। সব ভাইরাসও ধরন পাল্টায়। শুধু করোনাভাইরাসই ধরন পাল্টাচ্ছে এমন না। এটিও বদলাচ্ছে এবং খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। বেশিরভাগ পরিবর্তন তেমন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এতে ভাইরাস দুর্বলও হয়ে পড়ে। কিন্তু কখনও ভাইরাসের মিউটেশন তাকে সুবিধা দেয়, আগের চেয়ে বেশি সংক্রামক বা কার্যকরভাবে প্রতিলিপি তৈরি কিংবা হোস্টকে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত করতে পারে।


জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ইমিউনোলজিস্ট অ্যান্ড্রিউ পেকোজ বলেন, ভাইরাসে যখন মিউটেশন হয় তখন আক্রান্ত ব্যক্তি জনসাধারণের মধ্যে তা ছড়াতে ভূমিকা রাখেন। প্রত্যেকবার ভাইরাসের পরিবর্তনের সময় আরো বেশি মিউটেশন যুক্ত হয়। এখন আমরা সেই ভাইরাস দেখতে পাচ্ছি যা আগেরচেয়ে অনেক দ্রুত কার্যকরভাবে ছড়াচ্ছে। পেসকজ আরো বলেন, প্রত্যেকবার যখন জনগণের মধ্যে ভাইরাস ছড়ায় তখন সেখানে ইমিউনিটি অর্জনকারী, টিকা নেওয়া এবং টিকা না নেওয়া মানুষেরা থাকে। ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ থাকে।

print

Leave a Reply