বাংলাদেশে আবারো আইসিইউ সংকট


টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : বাংলাদেশে মহামারি করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও শনাক্ত সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেশ কয়েকটি জেলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে আইসিইউ সংকট। জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই রোগী নিয়ে রাজধানীতে আসছেন। তাদের অধিকাংশই ছুটছেন সরকারি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে, স্বজনের জন্য খুঁজছেন আইসিইউ। কিন্তু আইসিইউ খালি করোনা হাসপাতালগুলোতে। রাজধানীর ৫টি সরকারি হাসপাতালে খালি নেই একটি আইসিইউ শয্যাও। এছাড়া তিনটিতে আইসিইউ শয্যার কোনো ব্যবস্থাই নেই।
জানা গেছে, সারা বাংলাদেশে করোনা রোগীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০০টি হাসপাতালের মধ্যে ৫২টিতেই আইসিইউ সুবিধা নেই। এরমধ্যে ৩৫টি জেলা সদর হাসপাতাল। মোট আইসিইউর প্রায় ৭৫ শতাংশই ঢাকা বিভাগে, ২৫ শতাংশ বাকি সাত বিভাগে। অথচ বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আবারো দেখা দিচ্ছে আইসিইউ সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আইসিইউর জন্য বড় ধরনের মাসুল দিতে হবে। দেখা দেবে হাহাকার। এদিকে বেশ কয়েকটি জেলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও সংকট বাড়ছে। ঢাকার বাইরে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই রোগী নিয়ে রাজধানীতে ছুটে আসছেন। তাদের অধিকাংশই প্রথমে সরকারি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউয়ের জন্য ছুটছেন।
উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ইউনিট-২) ও বার্ন ইউনিট, ৫০০ শয্যার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আইসিইউর ব্যবস্থা না থাকা তিনটি হাসপাতাল হলো-মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলোজি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল।
এদিকে অধিদপ্তর বলছে, গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর ঘটনার সাড়ে ৭৭ শতাংশই হয়েছে আইসিইউ সুবিধা কম থাকা সাত বিভাগে। আর সাড়ে ২২ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
রোগী বাড়লে অক্সিজেন সংকট হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বর্তমানে অক্সিজেনের উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে সেটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ বুলেটিনে এসব কথা বলা হয়। মহামারির পরিস্থিতি বর্ণনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বছরের ২৫তম সপ্তাহের তুলনায় ২৬তম সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৫১ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অক্সিজেন সংকটে রোগীর মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে। মডার্নার টিকা কীভাবে দেয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে বলেও জানান অধ্যাপক মো. নাজমুল ইসলাম।
এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত শনিবার মারা গেছেন ১৩৪ জন। গত শুক্রবার ১৩২ জন ও বৃহস্পতিবার ১৪৩ জন মারা যান। প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্ত সংখ্যা কোনদিন বাড়ছে আবার সামন্য কমছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, সংক্রমণ বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান কারণ হলো-দেশের অধিকাংশ মানুষই নিয়ম মেনে মাস্ক পরেনি। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা ছিল, কিন্তু কতটুকু মানা হয়েছে বা হচ্ছে তা সবাই জানে। এই মাস্ক পরা এবং সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা, এই দুটি উপায় ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, গত একমাস যাবত বলা হচ্ছিল যে সংক্রমণটা আবার বাড়বে, কিন্তু কোনো মানুষই কোনো ধরনের বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব ও সচেতনতা মানেনি। এক্ষেত্রে শুধু সরকার নয়, সাধারণ জনগণকেও আন্তরিক হতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ তো বিশ্বাসই করে না যে করোনাভাইরাস বলে কিছু আছে। দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে এক কোটি মানুষ হয়তো বিশ্বাস করে, তাও তাদের সবাই মাস্ক পরে না। তাহলে এই দেশে কী কারণে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আসবে?

print

Leave a Reply