Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আশিফুল ইসলাম জিন্নাহঃ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার এবং মাথাপিছু হাজার হাজার ডলারের হিসাব দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং দেশের সমষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নতির হিসাব পরিমাপ করা কোন সঠিক বৈজ্ঞানিক অর্থনৈতিক গবেষনা পদ্ধতি এবং নীতি না। এটা একটা রাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থা এবং সক্ষমতা মূল্যায়নের একটা মাপকাঠি মাত্র। কারণ দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির মূল্যায়ন হবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের আয়, ব্যয়, ক্র‍য় ক্ষমতা, সঞ্চয় ক্ষমতা, জীবনযাত্রার মানের উপর।

২০১৯ সালের প্রথমদিক থেকে বিগত দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর প্রকোপের কারণে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব খাত, ব্যবসায়ী সমাজ, উদ্যেক্তা, পেশাজীবী শ্রেণির মানুষদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা চরম খারাপ হয়ে গেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। লসে ব্যবসা চালিয়ে এবং ঘরে বসে পুজি ভেঙ্গে খেয়ে ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তাদের পুজি কমে গিয়েছে এবং অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, উদ্যেক্তাদের আয় এবং ক্রয় ক্ষমতা দুটাই কমে গেছে।

সংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্গত। এই মুহুর্তে তারা ব্যবসা এবং বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক থেকে সহজ শর্ত প্যাকেজে এবং স্বল্প সুদে এসএমই লোন পেলে করোনা মহামারীর চলমান ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারবে। তাদের ব্যবসা, আয় কিছুটা হলেও ভাল হবে, পুজি বাড়বে এবং এতে তাদের পরিবার স্বচ্ছল, স্বাবলম্বী হবার সুযোগ পাবে। তারা ভাল থাকলে, উন্নতি করলে সরকারের রাজস্ব ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং রাজস্ব আদায় করা সহজ হবে। এরফলে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড গতিশীল থাকবে এবং উন্নত হবে।

তাই এই করোনা মহামারীকালীণ বৈশ্বিক এবং দেশের আভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের বাঁচাতে কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ ব্যাংকের এগিয়ে আসা এবং বলিষ্ঠ উদ্যেগ নেয়া আজ সময়ের প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক অথরিটি যদি নিজে উদ্যেগী হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের জন্য বিনা জামানতে স্বল্প সুদে ২ লাখ, ৩ লাখ, ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা পরিমানের চারটি ইকোনমী বিজনেস লোন প্যাকেজ দেয় তাহলে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তারা করোনা মহামারীর ধাক্কাকে সামলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেকর্ড পরিমান বেড়েছে এবং বিপুল পরিমান অলস টাকা পড়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই বিপুল পরিমান অলস টাকাকে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যেক্তাদের জন্য পুজি বিনিয়োগের মাধ্যম হিসাবে খাটাবার উদ্যেগ নেয় তবে তারা আর্থিকভাবে সবল এবং শক্তিশালী হয়ে উঠার সুবর্ণ সুযোগ পাবে। আর তা দেশের ব্যবসা, সামাজিক উদ্যেগ এবং আর্থিক খাতকে সার্বিকভাবে গতিশীল এবং শক্তিশালী করে তুলবে। এতে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেক ভাল, উন্নত হবে এবং অন্যান্য ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পথ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত হবে। ©asifuljinnah@gmail.com

print

Leave a Reply