Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

অবাধে চলাচল করছে নিবন্ধনহীন স্পিডবোট

universal cardiac hospital
টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে লকডাউন চলাকালে নৌরুটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিবন্ধনহীন স্পিডবোট অবাধে চলাচল করছে। ব্যস্ততম এই নৌপথে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করায় স্পিডবোট দুঘর্টনার শিকার হচ্ছে। সরকারের কাছে নেই স্পিডবোটের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান। কয়েক হাজার স্পিডবোটের মধ্যে সরকারের অনুমোদন রয়েছে ২৯৭টির। এই জলযানে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রশিক্ষিত চালক না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে ঘাট মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে সরকার প্রতি বছর হারাচ্ছে রাজস্ব। এসব স্পিডবোট বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক সরকারি কর্মকর্তা।

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit

নিয়মনীতির বাইরে বিক্রি হওয়া এসব স্পিডবোটের শক্তিশালী ইঞ্জিন। যেগুলোর রেজিস্ট্রেশন না থাকায় পৌঁছে যাচ্ছে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলদস্যুদের হাতে।


জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বরতরা ঘাটে থাকার পরও কীভাবে স্পিডবোটগুলো চলাচল করে সেই প্রশ্নই সামনে আসছে ঘুরেফিরে। স্থানীয়রা বলছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই লকডাউনেও চলাচল করে এসব অবৈধ নৌযান। ব্যস্ত এই নৌপথে চলাচলকারী স্পিডবোটগুলোর নেই কোনো নিবন্ধন। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এগুলো চলাচল করে। চালকদেরও নেই লাইসেন্স কিংবা প্রশিক্ষণ। এসব নৌযান মাঝেমধ্যেই পড়ে দুর্ঘটনায়।

abc constructions
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বাংলাবাজার ঘাটের বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। আর স্থানীয় প্রশাসন দুষছে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় দায়িত্বরতদেরকে।

Green Delta Insurance Co. Ltd.
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এপাড়ের স্পিডবোটগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ওপারের স্পিডবোটগুলো কিন্তু আসলে নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। যার প্রেক্ষিতে যাত্রী নিয়ে তারা এপাড়ে এসে বিভিন্ন চরে যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিতো। এগুলো বন্ধ করাটাও অনেক কঠিন।

Sonali IT Pharmacy Managment System
অন্যদিকে মাওয়া নৌপুলিশের দাবি, শিমুলিয়া ঘাট থেকে কোনো স্পিডবোট ছেড়ে যায় না। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আশেপাশের চর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নৌযান চলাচল করে। গত সোমবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পুরাতন কাঁঠালবাড়ি ঘাটের কাছে নোঙর করে রাখা অনুমোদনহীন বাল্কহেডে স্পিডবোটের ধাক্কায় প্রাণ যায় ২৬ জনের।

abc constructions
সূত্র জানায়, সময় কম লাগায় পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে যাত্রী পারাপারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্পিডবোট। কিন্তু সরকারের নিয়মনীতির বাইরে ঘাট মালিকদের ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে এই জলযান। বিআইডব্লিউটিএ জরিপ অনুযায়ী পুরো বাংলাদেশে যাত্রী পারাপারে ব্যবহৃত ২৯৭টি স্পিডবোটের সরকারি অনুমোদন রয়েছে। এসব স্পিডবোটের চালকদের (সুকানি) কয়জনের সরকারি অনুমোদন রয়েছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য নেই বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে। স্পিডবোট চালকদের সরকারি অনুমোদন সম্পর্কে জানতে গেলে মাওয়াঘাটে কয়েকজন স্পিডবোট চালক জানান, এই ঘাটের স্পিডবোট চালকরা কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করছে। অনেকে শখের বশে স্পিডবোট চালানো শিখলেও বর্তমানে এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তাদের কারোর নৌযান চালানোর সরকারের কোন অনুমোদন নেই। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানান, স্পিডবোট চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও তাদের এ বিষয়ে কোন আগ্রহ নেই।

World Bridge School
স্পিডবোটের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রেও রয়েছে অনিয়ম। যার ফলে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক স্পিডবোট ঘাটে সরকার কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হলেও স্পিডবোট চালকরা নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।
এ ছাড়াও মাঝ নদীতে লঞ্চ থেকে যাত্রী উঠানো, স্পিডবোট গুলোতে কোন নেভিগেশন লাইট ও ব্যবহার না করা, সরকারের কাছ থেকে নকশার অনুমোদন না নিয়ে ইচ্ছেমতো স্পিডবোট তৈরি করা এবং সরকারি আদেশ অমান্য করে রাতে স্পিডবোট চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

Space for Rent

সন্ধ্যার শুরুতে সাময়িক বন্ধ করা হলেও সন্ধ্যার ৩০ মিনিট পর আবার স্পিডবোটে মানুষ পারাপার শুরু হয়। এ সময় তাড়াতাড়ি যাত্রী পারাপারের প্রলোভন দেখিয়ে লঞ্চ থেকে স্পিডবোটে যাত্রী উঠানো হয়। এ ছাড়াও বেপরোয়াভাবে স্পিডবোট চালানোর জন্য প্রতি বছর দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মৃত্যু হচ্ছে।

bppl
বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী জলযান ব্যবহারের আগে সেটার নকশা সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। কিন্তু স্পিডবোটের নকশার কোন সরকারি অনুমোদন নেই। নারায়ণগঞ্জের পাগলা, ফতুল্লা এবং সাইনবোর্ড এলাকার কারখানায় এসব স্পিডবোটের বডি তৈরি করা হয়। ইঞ্জিন এবং বডিসহ ১২ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোট তৈরি করতে খরচ হয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা, ২৪ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোড তৈরি করতে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। এসব স্পিডবোটে ৪০ অশ্বশক্তি থেকে ১১৫ অশ্বশক্তি সম্পন্ন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।
স্পিডবোটের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে না থাকায় এই জলযানের ইঞ্জিন বিক্রির ক্ষেত্রেও কোন নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এর ফলে কোন ইঞ্জিনকে ব্যবহার করছে অথবা এই ইঞ্জিন পুনরায় বিক্রি হলে তার মালিক কে হচ্ছে এর কোন তালিকা সরকারের কাছে থাকে না। এই সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলদস্যুরা অনায়াসে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারছে।

flygalaxy
কক্সবাজারে বর্তমানে সরকারের তালিকাভুক্ত ১৩০টি স্পিডবোট রয়েছে যার মধ্যে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৮৫টি নিয়মিত চলাচল করে। কক্সবাজার জেলার অন্যান্য রুটসমূহ কুতুবদিয়া, মগনামা, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন এবং শাহপরী দ্বীপে প্রায় ৫ শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে সেখানে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যার টাকা এবং পেশিশক্তি রয়েছে তারাই সেখানে স্পিডবোট ব্যবসা করে থাকে।

Credit Card - Yearly Charge Free
এদিকে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন রুটে চলমান স্পিডবোটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন ফরম তৈরি করে তা স্পিডবোট মালিকদের মধ্যে বিতরণও করা হয়েছে। কিন্তু মালিকদের অনীহার কারণে নিবন্ধন কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গত রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে নিবন্ধন ছাড়া কোনো স্পিডবোট চললে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর-উত্তম। বৈঠকে কমিটির সদস্য এম আব্দুল লতিফ ও রণজিৎ কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Sonali Tissue
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রুটে আনুমানিক ১৫ হাজার স্পিডবোট চলাচল করে। এর মধ্যে মাওয়ার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়িয়া, আরিচা-কাজীরহাট, আরিচা-দৌলতদিয়া, আরিচা-নগরবাড়ী, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, বরিশাল-ভোলা, নরসিংদী-নবীনগর রুটে সবচেয়ে বেশি বোট রয়েছে। এসব স্পিডবোট চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

World Bridge School
গত বছর দেওয়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে স্পিডবোটগুলো প্রতিনিয়ত জনজীবনে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সঠিক তথ্যের অভাবে দুর্ঘটনাকবলিত বোটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। আর নিবন্ধন না থাকায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে বোটগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়।

Sonali Tissue
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিবন্ধন ছাড়া স্পিডবোট চলতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়িসহ বিভিন্ন রুটে অসংখ্য স্পিডবোট ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী পারপার করে। তারা খুবই বেপরোয়া। এদের নিবন্ধন ও নিয়মকানুনের মধ্যে আনতে হবে। প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সেবার মান আরো গতিশীল করতে জনবল নিয়োগে, বিশেষ করে সার্ভেয়ার নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার নির্দেশ দেন। তিনি নৌদুর্ঘটনা হ্রাসে নৌযানে ‘রিভার্সিবল গিয়ার’ সংযোজন কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন।

Fly Galaxy Travels and Tours

print

Leave a Reply