Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/timesi/public_html/wp-content/themes/covernews/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটনেট, ঢাকা : কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বাঁধের তিন স্থানে ভাঙনের ফলে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর নদীর জল প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। এছাড়াও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে প্লাবিত এলাকার মানুষ। অপরদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে শুক্রবার ৪৬ সেন্টিমিটার জল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জল এখনো বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের জল বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলাসহ উজানে ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে জল উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শুক্রবার তিস্তা নদীর জল কাউনিয়া পয়েন্টে কিছুটা কমলেও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের জল সবকটি পয়েন্টে বাড়তে শুরু করেছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর জল শুক্রবার ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের জল নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, শুক্রবার সকাল জেলায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ভারী বৃষ্টিপাত চলমান থাকতে পারে।
এদিকে বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলায় তিস্তার ভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছে একের পর এক পরিবার। গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ আবাদি জমি বিলীন হচ্ছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙন প্রতিরোধে পাউবো কর্তৃপক্ষ বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবে খুব একটা কাজে আসছে না। জেলায় ২৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। এর মধ্যে দুই একটি পয়েন্ট বাদে বাকি অংশে তাদের ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে।
বন্যার পূর্বাভাসে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কোভিড ও বন্যা মোকাবিলায় প্রতি ইউনিয়নে প্রায় পৌনে চার লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা। এছাড়া উপজেলাগুলোতে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে ৩৪৪ মেট্রিক টন চাল এবং প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; যেন বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিভাগগুলো প্রস্তুত থাকে। বন্যাকবলিত মানুষকে উদ্ধার করে যেন আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়, সে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বাঁধের তিন স্থানে ভাঙনের ফলে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। ফুলগাজী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবন তরান্বিত হচ্ছে। দোকান-পাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিতে ডুবে রয়েছে রাস্তা-ঘাট, ফসলের মাঠ। ভেসে গেছে পুকরের মাছ।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান। এ সময় স্থানীয়রা তার কাছে অভিযোগ করে বলেন, ত্রুটিপূর্ণ নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টি হলেই তাতে ভাঙন দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং জল উন্নয়ন বোর্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামত করার অনুরোধ করেন।
ফেনী জল উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, শুক্রবার দুপুরে দিকে থেকে টানা বৃষ্টিতে জেলার ফুলগাজী উপজেলা সদরের উত্তর দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পাশে, পরশুরামের সাতকুচিয়া ও জয়পুর এলাকায় তিনটি নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রাম ও সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রাম, পরশুরামের সাতকুচিয়া ও জয়পুরসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরো জানান, টানা বৃষ্টিতে বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মুহুরী নদীর জল। জল অতিরিক্ত চাপে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে মেরামতের ব্যবস্থা নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অপর দিকে, কয়েক দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ বেশকিছু এলাকা শুক্রবার প্লাবিত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে প্লাবিত এলাকার মানুষ। বৃষ্টিতে বেড়ে যাওয়া নদ-নদীর জল নামতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাশাপাশি সিলেট সব নদীর জল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানানো হয়।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আঘাত হেনেছে ধলাই তীরবর্তী চাঁনপুর গ্রামে। আকস্মিক ঢলে গ্রামের ১০ পরিবারের বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা পার্শ্ববর্তী ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ নিয়ে গত চার বছরে গ্রামটির ৩০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ১৯০টি পরিবার।
কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়া বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা খরস্রোতা নদী ধলাই। কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর পাড় ঘেঁষা গ্রাম চাঁনপুর। গ্রামে প্রায় এক হাজার লোকের বসবাস। সবাই কৃষিজীবী। বংশ পরম্পরায় কৃষিকে উপজীব্য করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি ঢলে নদীভাঙনের কারণে গ্রামটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের জল ভেঙে দিলো আরও ১০টি পরিবারের স্বপ্ন।
সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, সিলেটের যেসব উপজেলায় টাকা বিতরণ করা হচ্ছে; এগুলো করোনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া। সিলেট জেলায় এখনও বন্যায় দেখা দেয়নি। আমরা বন্যা দেখা দিলে ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
এছাড়াও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ সেন্টিমিটার জল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জল এখনো বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সিরাজগঞ্জ জল উন্নয়ন বোর্ড। জেলার চরাঞ্চল ও নদী-তীরবর্তী নিম্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জেলার সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও কাজিপুরের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জল উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে গত কয়েক দিন ধরেই যমুনা নদীর জল বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার ৪৬ সেন্টিমিটার জল বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিন যদি জল এভাবেই বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

print

Leave a Reply