উন্নয়ন কাজই সাংবাদিক মুস্তাকের কাল হলো

প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন

স্টাফ রিপোর্টার : সমাজেদর জন্য ভালো কাজ করাটাই ঢাকার নবাগঞ্জের সাংবাদিক ও এনজিও কর্মী মোঃ মুস্তাক মৃধার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজ এলাকার নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি করতে কাজ করতেন মুস্তাক। কিন্তু এলাকার নারীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে আপত্তির সূত্র ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই এনজিও কর্মী।

জানা গেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দৈনিক প্রথম কথা পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সাথেই কাজ করে চলছেন মুস্তাক। উপজেলার উন্নয়ন সাংবাদিকতার এই অন্যতম দিকপাল ও ক্ষুরধার প্রতিবেদক নানা প্রতিবেদনে জনপ্রিয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাহ্রা ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের সাম্পান এসএমসিএলএল নামের এনজিওতে কাজ করেন মুস্তাক মৃধা।

গ্রামের মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেই এনজিওটির বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে কাজ। মুস্তাক নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, কৃষিতে হাইব্রীড ফলন, গবাদিপশু লালন-পালন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কাজে তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকেন। আর তাই গ্রামের নারীদের কাছে খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মৃধা।

কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি স্থানীয় মেম্বারসহ গ্রামের সালিশি মোড়লরা। তাছাড়া নারীরা আর্থিকভাবে বিভিন্ন কাজে বেশি অংশ নেয়ায় গ্রামের বাইরেও কাজের জন্য যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। তাতেই স্থানীয় মৌলবাদি ও মাতবররা বাঁধা দিয়ে বসেন। বিষয়টি নিয়ে নিজ এনজিওর প্রধান কার্যালয়, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে বিচার দেয়ার পর মাতবররা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

অথচ তার করা প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই কোটি টাকার দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচিত হয়। তাছাড়া কর্মসংস্থানসহ এলাকার উন্নয়ন কাজেরও অগ্রগতি পেয়েছ তার করা রিপোর্টের সূত্র ধরেই। তার হাত ধরেই তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-গুলো নিয়মিত জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেতো।

এলাকার রাস্তা, কালভার্টসহ নানা উন্নয়ন কাজের দুর্ণীতি নিয়ে তার করা প্রতিবেদন আলোড়ন তৈরী করে। এতে চেয়ারম্যান ও মেম্বার তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে হামলা চালায়। পরপর দুইবার হামলায় বেঁচে গেলেও গত ৪ জুনের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকেন মৃধা। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে গ্রামে ফেরার পর তাকে মেরে ফেলার হুমকী দিতে থাকে মেম্বারের বাহিনী। হামলা থেকে বাঁচতে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চেয়েও কোন প্রতিকার পায়নি সে। তাই গা ঢাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে মৃধা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলগীচর গ্রামে মুস্তাকের পিতার পৈত্রিক বাড়িটি আগুনে পোড়া। পাশেই টিনের চালা করে তারা বসবাস করছেন। গ্রামবাসী জানায়, মেম্বার ও তার লোকজন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি। তাছাড়া গ্রামেই একাধিকবার হামলার শিকার হয়ে মুস্তাকের আহত হওয়ার তথ্যও জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, মুস্তাক যাতে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাহিনি লেলিয়ে রেখেছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের লোকজন। তাছাড়া মুস্তাকের এনজিওর সাথে কেউ যুক্ত হলে তাকে গ্রামছাড়া করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। তাই প্রাণ বাঁচাতে মুস্তাকের বাইরে পালিয়ে থাকাই শ্রেয় মনে করছেন গ্রামবাসী।

তবে অধিকাংশ নারীই নির্যাতন আর প্রাণের ভয়ে মুখ খুলতে চাননি। এমনকি তথ্য নেয়ার পর নাম প্রকাশ না করার আকুল আবেদন জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের মধ্য পাড়ার এক নারী এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা প্রায় শতাধিক নারী ছিলাম যারা মুস্তাকের এনজিওতে প্রশিক্ষণ নিতাম। কিন্তু হামলা করে মুস্তাককে আহত করে এনজিওর কাজ গ্রামে বন্ধ করে দিয়েছে মেম্বার। তাই কয়েকশত পরিবার আবারো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

print

Leave a Reply